চার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সাবেক রসিক মেয়র মোস্তফাসহ ৮জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

2026-02-26 01:55:24

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বেসরকারি মেঘনা ব্যাংকের ৪ কোটি ২৬ লাখ ৭৫ হাজার ৫০৩ টাকা ৩৩ পয়সা আত্মসাতের অভিযোগে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সাবেক মেয়র মোস্তফা রংপুর সিটি করপোরেশেনের ২বারের মেয়র ও জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান।

বুধবার দুদকের রংপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. শাওন মিয়া বাদী হয়ে বিজ্ঞ সিনিয়র স্পেশাল জর্জ  আদালত, রংপুরের অভিক্ষেত্রাধীনে  দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, রংপুর-এ মামলাটি দায়ের করেন। যার মামলা নম্বর ০২/২৬ । মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহারে অভিযুক্ত আসামিরা হলেন,  রংপুর সিটি কর্পোরেশন সাবেক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, মেসার্স রাকিব ব্রাদার্সের  প্রোপাইটর মো. আব্দুর রকিব, মুক্তি প্রকৌশল সংস্থার স্বত্বাধিকারী এ.টি.এম ফুহাদ হোসেন, রফিকুল ইসলাম দুলাল, মেঘনা ব্যাংক লিমিটেড রংপুর শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মো. মাহফুজুল ইসলাম,  মেঘনা ব্যাংকের সাবেক সহকারী শাখা ব্যবস্থাপক এ কে এম শফিকুল মমতাজ,

সিনিয়র অফিসার মো. আতিকুর রহমান, মেঘনা ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের সাবেক ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (বর্তমানে অন্য একটি ব্যাংকের কর্মকর্তা) মো. মঞ্জুর হোসেন পাটওয়ারী।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের একটি টেন্ডার (আইডি নং-১৩১৬৬৪) যৌথভাবে লাভ করেন মো. শাহজাহান আলী ও ঠিকাদার মো. আব্দুর রকিব। পরবর্তীতে একটি চুক্তিপত্রের মাধ্যমে উক্ত প্রকল্পের সকল অফিসিয়াল কার্যক্রম, বিল দাখিল, চেক গ্রহণ এবং ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার পূর্ণ ক্ষমতা মো. আব্দুর রকিবকে প্রদান করা হয়।

এরপর মো. আব্দুর রকিব একটি অরেজিস্টার্ড আমমোক্তারনামার মাধ্যমে এ.টি.এম ফুহাদ হোসেনকে প্রকল্প বাস্তবায়ন, বিল উত্তোলন ও ব্যাংক হিসাব পরিচালনার ক্ষমতা প্রদান করেন। এ লক্ষ্যে ‘এস.এ.-আর.বি (জেভি)’ নামে মেঘনা ব্যাংক রংপুর শাখায় একটি হিসাব খোলা হয়।

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশ ও অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতারণামূলকভাবে ব্যাংকের ৪,২৬,৭৫,৫০৩ টাকা ৩৩ পয়সা আত্মসাৎ করেন।

দুদক সূত্রে জানা যায়, কমিশনের বিভাগীয় কার্যালয় রংপুরের নির্দেশনায় প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদনক্রমে এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়। অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে। দুদক জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।