স্ট্রবেরি চাষে সফল রংপুরের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা হাবিব মিয়া

2026-03-01 00:13:07

নিজস্ব প্রতিবেদক:

স্ট্রবেরি অতি সুস্বাদু এবং লাভজনক একটি ফল। বাজারে স্ট্রবেরি ফলের ভালো চাহিদা ও দাম রয়েছে। তাই কৃষকরাও এই স্ট্রবেরি ফল চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। স্ট্রবেরি চাষ বর্তমানে বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে বেড়েছে। কারণ, স্ট্রবেরি ফল হলো একটি আকর্ষণীয় বর্ণ, গন্ধ ও স্বাদযুক্ত এবং উচ্চ পুষ্টিগুণ সম্পন্ন অর্থকারী ফসল। স্ট্রবেরির বৈজ্ঞানিক নাম হলো  Fragaria ananassa. স্ট্রবেরি যদিও শীত প্রধান দেশের ফসল। তবে উষ্ণ মন্ডলীয় অঞ্চলের চাষ উপযোগী স্ট্রবেরি উদ্ভাবন হওয়া বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এই স্ট্রবেরি বানিজ্যিকভাবে চাষ করা হচ্ছে। আর ঘরের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে বাড়ির ছাদে বা আঙ্গিনায় টবে স্ট্রবেরি চাষ করা যায় এবং ভালো ফলন পাওয়া যায়।

এই ফল বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে সফলতা পেয়েছেন রংপুরের তরুণ উদ্যোক্তা হাবিব মিয়া। উচ্চমূল্যের এই ফল লাভজনক চাষে পরিণত হয়েছে তার। ফুল আর কাঁচা পাকা ফলে ভরে গেছে গাছগুলো। স্ট্রবেরি পুষ্টি সম্পন্ন ফল হাওয়ায় দেশের বাজারে রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। লাভজনক এই চাষ কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

তরুণ উদ্যোক্তা হাবিব মিয়া পেশায় একজন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার পরেও চাকুরী ছেড়ে আধুনিক কৃষি নিয়ে কাজ করতে বেশ স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। নগরীর ৮ নং ওয়ার্ডের খলিশাকুড়ি সবুজ পাড়া এলাকায় গড়ে তুলেছেন স্ট্রবেরি বাগান। শুরুতেই তিনি ২০২৩ সালে ৬ শতক জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করে লাভ জনক হওয়ায়, পরে প্রায় ৪০ শতক জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করেছেন। তার স্ট্রবেরি বাগানে কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন কয়েকজন কৃষক। আধুনিক চাষাবাদে লাভজনক হওয়ায় অনেকে হচ্ছেন অনুপ্রাণিত।

হাবিব মিয়া বলেন, বড় ভাইয়ের পরামর্শ ও ইউটিউব দেখে আধুনিক চাষাবাদ শুরু করেন তিনি। বানিজ্যিক ভাবে শুরু করে প্রথম দিকে এক লক্ষ টাকা খরচ করে প্রায় ৩ লক্ষ টাকার ফল বিক্রি করেছেন তিনি।  তিনি আরো বলেন, সরকারে সহযোগীতা পেলে আরো বড় আকারে স্ট্রবেরির বাগান করবেন। 

উদ্যোক্তা হাবিব জানায়, নিয়মিত পরিচর্যায় জানুয়ারি মাসে গাছে ফুল আসতে শুরু করে। এখন সাদা ফুল আর পাকা লাল স্ট্রবেরি ফল শোভা পাচ্ছে গাছে গাছে। জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে ফল সংগ্রহ শুরু হলেও চলবে এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, স্ট্রবেরি ফল শীত প্রধান অঞ্চলের একটি ফসল। বর্তমানে স্ট্রবেরির কিছু গ্রীষ্মমন্ডলীয় উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন হয়েছে। আর এসব স্ট্রবেরির  জাত  চাষের জন্য দিনের আবহাওয়ার তাপমাত্রা ২০-২৬ ডিগ্রি এবং রাতের আবহাওয়ার ১২-১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকা প্রয়োজন। স্ট্রবেরি চাষের জন্য বৃষ্টির পানি জমে না এমন উঁচু ও উর্বর জমি নির্বাচন করতে হবে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট স্ট্রবেরির যেসব উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছে সেগুলো হলো: বারি স্ট্রবেরি-১,  বারি স্ট্রবেরি-২ ও বারি স্ট্রবেরি-৩। স্ট্রবেরির এসব জাত গুলোর মধ্যে যেকোনো একটি নির্বাচন করে বাংলাদেশের আবহাওয়া অনুযায়ী নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাসের মাধ্যে স্ট্রবেরির চারার রোপণ করা যাবে।

স্ট্রবেরি চাষের জমিতে স্ট্রবেরির চারা রোপণের ১৫-২০ দিন আগে প্রতি শতক জমিতে ৩০ গ্রাম হারে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। এতে মাটিবাহিত রোগ জীবাণু গুলো নষ্ট হয়ে যায়। তারপর ফাটিগেশন পদ্ধতিতে স্ট্রবেরি চাষের জন্য ১০-১৫ সেন্টিমিটার উঁঁচু এবং ১ মিটার প্রশস্ত একটি বেড তৈরি করতে হবে। পচা গোবর, ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি, জিপসাম, বরিক এসিড, জিংক সালফেট ও সেচের পানি প্রয়োগ করলে স্ট্রবেরির ভালো ফলন পাওয়া যায়। ফাটিগেশন পদ্ধতিতে স্ট্রবেরি চাষ করলে হেক্টরপ্রতি স্ট্রবেরির ফলন পাওয়া যায় প্রায় ১৫-২০ টন।

এ ব্যপারে জানাতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (রংপুর অঞ্চল) সিরাজুল ইসলাম বলেন, তিনি স্ট্রবেরি চাষের সফল উদ্যাক্তা হাবিব মিয়াকে ধন্যবাদ জানান ও পাশাপাশি সকলকে স্ট্রবেরি চাষে অংশ নেয়ার আহবান জানান। তিনি আরো বলেন, এই ফলের চাষ বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবং কৃষি উদ্যোক্তা তৈরিতে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার কথা জানান এই কর্মকর্তা।