ঘোড়াঘাট, প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ভুট্টা চাষ করে অনেক কৃষকের ভাগ্য বদলে গেছে। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। ভুট্টা চাষে লক্ষমাত্রা ছাড়িয়েছে । চলতি মৌসুমে জীবননগর উপজেলায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। এবার ভুট্টা চাষিদের ভালো ফলন দেখে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে ভুট্টার বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন উপজেলার কৃষকরা। বিগত কয়েক বছরে ভুট্টাচাষ লাভজনক হওয়ায় এবারও ভুট্টাচাষে ঝুঁকে পড়েছেন ঘোড়াঘাটের ভুট্টাচাষিরা। উপজেলার কয়েকজন ভূট্টাচাষির সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, ভুট্টার চাহিদা অনেক। গবাদি পশুর উন্নত মানের খাবার হিসেবে ব্যবহার করায় দিন দিন এর চাহিদা বেড়েছে। ধু-ধু বালুচরসহ বিভিন্ন এলাকায় ভুট্টাচাষের বিপ্লব ঘটিয়েছে কৃষকরা। ভুট্টাচাসে বদলে গেছে এসব এলাকার মানুষের জীবনচিত্র। একসময় এই অঞ্চলের কৃষিকাজ শুধু ইরি-বোরো ধান, আমন ধান এবং কিছু চিরাচরিত শাকসবজির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমানে আধুনিক পদ্ধতিতে ভুট্টা চাষ করে কৃষকরা প্রচুর অর্থ উপার্জন করছেন। ভুট্টা চাষের এই সাফল্য কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে এবং এটি এখন তাদের কাছে খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। চলতি মৌসুমে জীবননগর উপজেলায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ আশা করছে, বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভুট্টার বাম্পার ফলন হবে। কৃষকরা জানিয়েছেন, ভুট্টা চাষে খরচ বাদে প্রতি বিঘা জমিতে ২৫-৩০ হাজার টাকা লাভ থাকে। বছরে দুবার ভুট্টা চাষ করা যায়। নভেম্বর-ডিসেম্বর এবং মে-জুন ভুট্টা চাষের জন্য উপযুক্ত সময়। শীতকালে ফলন বেশি হওয়ায় কৃষকরা এই সময়ে বেশি চাষাবাদ করেন। তারা আরও জানান, একই জমিতে ধান চাষ করে গড়ে ২৫-৩০ মণ ফলন পাওয়া যায়, যার বাজারমূল্য ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, ভুট্টা চাষ করে ৪০-৪৫ মণ ফলন পাওয়া যায়, যার বাজারমূল্য কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা। এই কারণেই কৃষকরা ধানের চাষ কমিয়ে ভুট্টার দিকে ঝুঁকছেন। গত বছর ভুট্টার ভালো দাম পাওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকরা উচ্চ ফলনশীল জাতের ভুট্টা চাষে আগ্রহী হয়েছেন। দেশি জাতের তুলনায় হাইব্রিড ভুট্টায় সার, কীটনাশক ও সেচের খরচ কম, তাই কৃষকরা হাইব্রিড ভুট্টা চাষে বেশি আগ্রহী। ভুট্টা গাছ ও মাড়াইয়ের পর অবশিষ্ট অংশ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। উপজেলার কৃষক জলিল জানান, কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে তিনি প্রথমে তার নিজস্ব ৩৩ শতক কৃষি জমিতে ভুট্টার চাষ শুরু করেন। কৃষক শাকিল হোসেন বলেন, এর সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো, তিনি একই জমিতে সাথী ফসল হিসেবে লালশাক, ফরাস শিম ও টমেটোর চাষও বেগুন করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে তার জমিতে ভুট্টার ভালো ফলন হয়েছে । উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুলজ্জামান এই বিষয়ে নিশ্চিত করে জানান, কৃষক জলিল তাদের পরামর্শে হাইব্রিড জাতের ভুট্টা চাষ করে সফল হয়েছেন। তিনি বলেন, ভুট্টা চাষ কম হলেও ভুট্টা চাষে তার ভালো অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং ভুট্টার বর্তমান ফলন দেখে আশা করা যায় তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। এই উপজেলার মাটি ভুট্টা চাষের জন্য খুবই উপযুক্ত এবং কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত পরামর্শ দেয়ায় এখানে রেকর্ড পরিমাণ ভুট্টা চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে আশা করা যায়। তবে কৃষকরা যদি ভুট্টা সংরক্ষণ করতে পারতেন, তাহলে তারা আরও বেশি লাভবান হতেন। কৃষি বিভাগ থেকে আধুনিক জাতের ও উচ্চ ফলনশীল ভুট্টার চাষ বাড়ানোর জন্য কৃষকদের প্রদর্শনী ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে ভুট্টার চাষ আরও বাড়বে বলে আশা করা যায়।