নির্মল রায়:
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় সরকারি দপ্তরগুলোতে নির্ধারিত সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ আবারও সামনে এসেছে। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববার (১ মার্চ) সকাল ৯টায় উপজেলা পরিষদে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অফিস শুরু হওয়ার এক ঘণ্টা পরও অনেক দপ্তরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত হননি।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে উপস্থিত থেকে অন্তত সকাল ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ দপ্তরে অবস্থান করে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার কথা। জনসেবার মানোন্নয়ন ও প্রশাসনিক সমন্বয় নিশ্চিত করতেই এ নির্দেশনা জারি রয়েছে।
সকাল ৯টায় উপজেলা পরিষদে উপস্থিত হয়ে দেখা যায়, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, সমবায় কর্মকর্তা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিজ নিজ দপ্তরে ছিলেন।
তবে সকাল ১০টা ১০ মিনিট পর্যন্ত উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মলি রহমান অফিসে আসেননি। এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ওবায়দুল রহমান সকাল ৯টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত অনুপস্থিত ছিলেন। অডিটর এ.কে.এম. মামুনুর রশিদ, সুপারিনটেনডেন্ট এস.এ.এম. আব্দুর সাত্তার এবং উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা উম্মে কুলসুমা খাতুন সকাল ১০টার মধ্যেও উপস্থিত হননি। তথ্যসেবা কর্মকর্তা তাসমিন খুশবু সরকার সকাল ১১টা পর্যন্ত অফিসে আসেননি।
এ ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, মৎস্য কর্মকর্তা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইনস্ট্রাক্টর, ফরেস্টার কর্মকর্তা, আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা এবং উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তাকেও সকাল ১০টার পর অফিসে আসতে দেখা যায়। সমাজসেবা কর্মকর্তা ও পরিসংখ্যান কর্মকর্তার পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে।
সকালেই বিভিন্ন কাজে উপজেলা পরিষদে আসা মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা যায়। অনেকেই নিরাশ হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
বিনবিনা চর থেকে আসা এক সেবাপ্রার্থী মোসাদ্দেক বলেন, “সকাল সকাল কাজ সেরে চলে যাব ভেবেছিলাম। এসে দেখি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নেই। কতক্ষণ অপেক্ষা করব বুঝতে না পেরে ফিরে যাচ্ছি।”
আরেক সেবাপ্রার্থী হামিদুর রহমান বলেন, “দূর গ্রাম থেকে ভাড়া খরচ করে আসি। অফিসে এসে যদি কর্মকর্তাকে না পাই, তাহলে আমাদের সময় ও টাকাই বৃথা যায়।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নির্ধারিত সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে উপস্থিত না থাকলে জনসেবা ব্যাহত হয়, সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি বাড়ে এবং প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যায়।
এ বিষয়ে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মলি রহমান বলেন, “আমি তখন রাস্তায় ছিলাম, প্রায় ১০টা বাজে।”
তথ্য কর্মকর্তা তাসমিন খুশবু সরকার জানান, তিনি ছুটিতে ছিলেন, তবে কোনো লিখিত কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা জেসমিন সাঈদ বলেন, রংপুর অফিস থেকে বই আনার কাজে যাচ্ছিলেন।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান জানান, তিনি ফিল্ডে দাপ্তরিক কাজে ছিলেন।
অন্য কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, তারা অফিসে আসার পথে ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। পূর্বে সকল কর্মকর্তাকে যথাসময়ে অফিসে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরপরও একই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।