কুড়িগ্রামে পলিথিন বর্জনের ডাক জলবায়ু পরিষদের

2026-03-02 22:23:57

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

"আইসো বাহে কোনঠে সবাই, পলিথিন বর্জন করিয়া পরিবেশ বাঁচাই’ এই শ্লোগান নিয়ে পলিথিন বর্জনের শপথ এবং দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেলে  কুড়িগ্রাম জেলা জলবায়ু পরিষদের আয়োজনে শহরের কাশফুল রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, কুড়িগ্রাম জেলা জলবায়ু পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি চাষী নুরুন্নবী সরকার,সহসভাপতি (নীতি ও নৈতিকতা) চঞ্চল মাহমুদ,সাধারণ সম্পাদক খাদিজা পারভিন খুশি, ইএসডিও-হেলভেটাস বাস্তবায়িত একশন্স টু ক্লাইমেট চেঞ্জ প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক গোলাম ফারুক, লাইভলীহুড অফিসার সোহেল রানাসহ কুড়িগ্রাম জেলা জলবায়ু পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

জেলা জলবায়ু পরিষদের সভাপতি আফতাব উদ্দিন বলেন, পলিথিনের ব্যবহার বাংলাদেশে একটি গুরুতর পরিবেশ ও স্বাস্থ্যগত সমস্যা। ২০০২ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করলেও বর্তমানে এর অবাধ ব্যবহার চলছে। এতে করে পরিবেশ দূষণ, মাটি দূষণ, পানি ও নর্দমা দূষণ সহ বিভিন্ন দুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে। 

জলবায়ু পরিষদের সহসভাপতি (নীতি ও নৈতিকতা) চঞ্চল মাহমুদ বলেন, বর্জনের কাজটি শুরু করতে হবে নিজ পরিসর ও পরিবার থেকে।  জলবায়ু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক খাদিজা পারভিন খুশি বলেন, পলিথিন ব্যাগ ড্রেন-খাল-বিল ও নদীতে জমা হয়ে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অচল করে দিচ্ছে। নদী থেকে পলিথিন সমুদ্রে গিয়ে সামুদ্রিক ইকোসিস্টেমের মারাত্মক ক্ষতি করছে যা সমুদ্রের প্রাণীকুলের জন্য হুমকি।

প্রকল্প ব্যবস্থাপক গোলাম ফারুক বলেন,পলিথিন বা প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে উৎপন্ন মাইক্রোপ্লাস্টিক বাতাস, পানি ও খাবারের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসার, শ্বাসকষ্ট, ফুসফুস ও কিডনিজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। পলিথিন ব্যাগে খাবার মোড়কজাতের মাধ্যমে থাকা বিষাক্ত রাসায়নিক খাবারে মিশে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করছে। 

বক্তারা বলেন, ২০১০ সালের আইন অনুযায়ী পাটজাত মোড়কের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগ,কাপড়ের ব্যাগ, কাগজের ব্যাগ ও কচুরিপানা থেকে তৈরি ব্যাগের ব্যবহার উৎসাহিত করা উচিত।

পরিষদের মিডিয়া সম্পাদক নাজমুল হোসেন বলেন, পলিথিনের ব্যাপক ব্যবহার বন্ধ করতে জনসচেতনতা, কঠোর নজরদারি এবং সুলভ বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। এখানে জলবায়ু পরিষদকে চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হিসেবে দুর্বার গতিতে কাজ করতে হবে।

আলোচনা শেষে জলবায়ু পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি চাষী নুরুন্নবী সরকার সকলকে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথের কথা ছিল, ‘আমি শপথ করিতেছি যে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্ভোগ মোকাবেলার অংশ হিসাবে পলিথিন বর্জন করিব। পরিবারে ইহার বাস্তবায়ন করিবার প্রাণপণ চেষ্টা করিব। অতীব প্রয়োজনে যেই পরিমান পলিথিন ব্যবহারের আবশ্যিকতা আছে ততটুকুন ব্যবহার করিব এবং তাহা যেন পরিবেশের ক্ষতি সাধন করিতে না পারে সেইভাবে ব্যবস্থাপনা করিব। আমি আমার পরিধিতে এই সচেতনতা সর্বদা প্রচার ও বাস্তবায়ন করিবার জন্য উদ্যোগী হইব। হে মহান আল্লাহ! এই প্রতিজ্ঞা পালন করিবার তৌফিক দান করুন। আমিন।’