বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় যমুনাশ্বরী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় জনপদ। নদীভাঙন রোধ, ফসলি জমি ও বসতভিটা রক্ষা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের দাবিতে সোমবার (২ মার্চ) সকাল ১১টায় লোহানীপাড়া ও কুতুবপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ নাগেরহাট সেতুতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। দুই শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় কৃষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড। স্থানীয় জনসাধারণ অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক চক্র যমুনাশ্বরী নদীর বুক চিরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং বর্ষা মৌসুমের আগেই নদীতীরবর্তী ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও সরকারি স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। তাদের দাবি, একাধিকবার প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে তারা রাজপথে নামতে হয়েছেন। মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল মিয়া বলেন, আমাদের আবাদি জমি ধীরে ধীরে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে। এখনই যদি এই কার্যক্রম বন্ধ না করা হয়, তাহলে লোহানীপাড়া ও কুতুবপুর ইউনিয়নের অনেক গ্রাম মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। প্রশাসন যদি দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নেয় তাহলে এই অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে চুরে চুরমার করে দেয়া হবে। এখানে কোন রাজনৈতিক দলের প্রভাব বিস্তার চলবেনা। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মনজুরুল আহসান মধু বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানাচ্ছি। প্রশাসনের কাছে বহুবার অভিযোগ দিয়েছি। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।
এ বিষয়ে লোহানীপাড়া ইউনিয়নের মাদাই খামারের বাসিন্দা রিমন ইসলাম বলেন, এটি শুধু জমি রক্ষার প্রশ্ন নয়, এটি পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্বের প্রশ্ন। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। যদি এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ না হয় তাহলে নাগেরহাট সেতুটি ভেঙে যেতে পারে। তাই আমরা প্রশাসনের নিকট আবেদন করছি দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হক।
মানববন্ধন শেষে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আঞ্জুমান সুলতানা এবং বদরগঞ্জ থানার তদন্ত ওসি নুরুল আমিন-এর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আঞ্জুমান সুলতানা বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।