ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর ডিমলায় সাংবাদিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রবীণ ও সৎ সাংবাদিক নিরঞ্জন দে (৬৫) এর নির্ভীক কলম থেমে গেল, তিনি আর আমাদের মাঝে নেই। সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে উপজেলা সদরে অবস্থিত নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে জেলা ও উপজেলার সকল সাংবাদিক সংগঠন সহ উপজেলার আশপাশের এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন ধরে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। সোমবার হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ডিমলা সরকারী বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন নিজ বাসভবনেই তিনি পরলোকগমন করেন। মৃত্যুকালে তিনি পরিবার-পরিজন, অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের মানুষ তার বাসভবনে ছুটে যান এবং শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা পেশায় নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন নিরঞ্জন দে। তিনি স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকা ও দৈনিক খবর পত্রিকায় ডিমলা উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ডিমলা উপজেলার নানা সমস্যা, সম্ভাবনা, উন্নয়ন কার্যক্রম, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও সামাজিক ইস্যু নিয়ে তিনি নিয়মিত প্রতিবেদন পত্রিকাগুলোতে প্রকাশ করতেন। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের অধিকার, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সোচ্চার কণ্ঠস্বর।
সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন অভিভাবকতুল্য। নবীন সাংবাদিকদের হাতে-কলমে কাজ শেখানো, সংবাদ সংগ্রহের কৌশল, বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখা এবং নৈতিকতা রক্ষা বিষয়ে তিনি সবসময় পরামর্শ দিতেন। তার সহজ-সরল জীবনযাপন, মিষ্টভাষী আচরণ ও আন্তরিকতার কারণে তিনি সকলের কাছে ছিলেন অত্যন্ত প্রিয় ‘নিরেন দা’।
তার কর্মজীবনে বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সংবাদ পরিবেশন করে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকতায় একটি আলাদা অবস্থান তৈরি করেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনে তিনি কখনো আপস করেননি সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই ছিল তার প্রধান বৈশিষ্ট্য। ফলে সাংবাদিক মহলে তিনি ছিলেন সম্মানিত ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ডিমলা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ডিমলা রিপোর্টার্স ক্লাব, প্রেসক্লাব ডিমলা, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব সহ নীলফামারী জেলার বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন। এক শোকবার্তায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, “নিরঞ্জন দে’র মৃত্যুতে ডিমলার সাংবাদিক সমাজ এক অভিজ্ঞ, সৎ ও নির্ভীক কণ্ঠস্বরকে হারাল। তার অবদান সাংবাদিক সমাজ চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।” পাশাপাশি তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।
এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পৃথক শোকবার্তা প্রদান করা হয়েছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে তার স্মৃতিচারণ করেন এবং তার কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
জানা গেছে, পারিবারিক ভাবে হিন্দু রীতি নীতি অনুয়ায়ী শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে।
নিরঞ্জন দে’র মৃত্যুতে ডিমলা উপজেলার সংবাদমাধ্যম জগতে যে শূন্যতার সৃষ্টি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তার আদর্শ, সততা ও পেশাদারিত্ব আগামী প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য প্রেরণা হয়ে থাকবে। তার বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করছি।