২ যুবদল নেতাসহ ২০ জনের নামে মামলা : যুবদল নেতা গালীব গ্রেফতার

2026-03-03 00:47:13

রংপুরে ‘মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ড’ অফিসে হামলা ও গুলি করে হত্যার হুমকি

অভিযুক্ত দুই নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ডিশ ব্যবসার ফিডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রংপুর মহানগরীতে ‘মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ড’ (সিগন্যাল অপারেটর ক্যবেল ওয়ানের) অফিসে যুবদলের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দুই যুবদল নেতাসহ ২০ জনের নামে রোববার রাতে মামলা হয়েছে। ‘মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ড’ নামে ওই প্রতিষ্ঠানের সহকারী হিসাব রক্ষক মো. রাসেল বাদী হয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। র‌্যাব-১৩ সোমবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে যুবদল নেতা তামজিদুর রহমান গালীবকে তার কামাল কাছনা বাসা থেকে গ্রেফতার করেছে।

মামলায় জেলা যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রহমান গালীব ও জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুল রহমান মনুর নাম উল্লেখ করে ২০জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। রোববার রাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ওই দুই যুবদল নেতাকে বহিষ্কার করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়। যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভুইয়া স্বাক্ষরিত  এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানা গেছে।

রোববার বিকেলে রংপুর প্রেসক্লাব এলাকায় অবস্থিত ক্যাবল ওয়ান ও মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ডের অফিসে ঢুকে যুবদলের সন্ত্রাসীরা আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করে অফিস কর্মচারীদের মারধর করে। এতে ১জন আহত হন। এরপর জিএম মেহেদি হাসান কাফিকে মুঠোফোনে গুলি করার হুমকি দেন এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন রংপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুল রহমান মনু। হুমকির এমন একটি সিসিটিভির ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আকিবুল রহমান মনু কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের অফিসে ৪তলায় প্রবেশ করেন। এর পর তিনি প্রতিষ্ঠানটির জিএমকে মুঠোফোনে বলেন, আজকের মধ্যে সমস্যার সমাধান না করলে তোর বেডরুমে ঢুকে বউ-বাচ্চাকে গুলি করবো। এসময় জিএমকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা কথা শোনা যায় ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভির ফুটেজে।

এঘটনায় র‌্যাব-১৩ ছায়া তদন্ত শুরু করেছে। সোমবার সন্ধ্যায় র‌্যাবের একটি দল গোপনে নগরীর কামাল কাছনায় নিজ বাড়ি থেকে যুবদলের জেলা কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রহমান গালীবকে র‌্যাব গ্রেফতার করে থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়িছে । এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১৩ এর উপ-অধিনায়ক মেজর সাইফুল ইসলাম।

ক্যাবল ওয়ান ও মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ডের কর্মচারী শিমুল ব্যানার্জী জানান, নগরীর ২৪নং ওয়ার্ডের কামাল কাছনা এলাকায় ক্যাবল ওয়ানের ফিড-সংযোগ অন্য এক ব্যক্তিকে দেওয়া হয়। কিন্তু ওই ফিড রংপুর জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশীদ গালিবকে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন মনু। ক্যাবল ওয়ান কর্তৃপক্ষ গালীবকে না দেওয়ায় গত কয়েকদির ধরে হুমকি দিয়ে আসছে তারা।

শনিবার বিকেলে ক্যাবল ওয়ান ও মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ডের অফিসে এসে প্রথমে ম্যানেজারকে মারপিট করে একপর্যায়ে অফিসের ল্যাটপসহ ভাঙচুর করে।  এরপর রংপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুল রহমান মনু মোবাইল ফোনে জেনারেল ম্যানেজার মেহেদি হাসান কাফিসহ তার স্ত্রী-সন্তানকে গুলি করার হুমকি দেয়।

এ বিষয়ে মেহেদি হাসান কাফি বলেন, রোববার মনু তার সঙ্গীদের নিয়ে অফিসে ঢুকে আমাকে না পেয়ে মুঠোফোনে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। এছাড়া অফিসে থাকা অন্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকেও হুমকি দেন। এ ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন  বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য ওই ক্যাবল ওয়ান ও মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ডের ফিডটি পরিচালনা করে আসছিল হারুন-উর রশিদ কানা হারুন। তিনি আওয়ামী লীগের রজনীতির সাথে জড়িত থাকায় তাঁকে জুলাই আন্দোলনের মামলায় গ্রেফতার করা হয়। তিনি এখন রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। তিনি কারারুদ্ধ থাকায় তার স্ত্রী সানজিদা ইসলাম ওই ডিস ও ইন্টারনেট লাইন পরিচালনা করে আসছিলেন। সেটি দখলের উদ্দেশ্যে এই হামলা ও গুলি করে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। ঘটনার পরেই মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার তোফায়েল আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন অপরাধীর কোন রাজনৈতিক পরিচয় নেই। আইনের গতিতে সব কিছু হবে। রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানার ওসি মো. শাহজাহান আলী জানিয়েছেন রোববার রাতেই এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি। আসামিদের গ্রেফতারের প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। এরই মধ্যে র‌্যাব-১৩ মামলায় জেলা যুবদলের সহ সাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রহমান গালীবকে গ্রেফতার করেছে। রাত ৮টায় তাকে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে কারাগারে পাঠানো হবে।

হারুন -উর-রশীদ কানা হারুনের স্ত্রী সানজিদা ইসলাম আমাদের প্রতিদিনকে জানান তার স্বামী আওয়ামী লীগের রজনীতির সাথে জড়িত থাকায় জুলাই আন্দোলনের গায়েবি মামলায় কারাগারে আছেন। তিনি ডিস ও ইন্টারলাইন সরবরাহের ব্যবসা চালিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে দিনযাপন করছেন। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর যুবদলের নামে একদল সন্ত্রাসী প্রায় আমাদের ব্যবসা পরিচালনা বন্ধ করার জন্য নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। বাড়িতে গিয়ে ছেলে-মেয়েসহ সবাইকে হত্যার হুমকি দিয়ে চরম ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। আমি সরকারের কাছে এই অত্যাচারের বিচার চাই। আমরা ভেবেছিলাম বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসলে তারেক রহমান সরকার প্রধন হলে দেশে জুলুমবাজি বন্ধ হবে। সন্ত্রাস বন্ধ হবে। কিন্তু দেখছি সেব আরও ভয়ঙ্কারভাবে দেখা দিচ্ছে।