ফয়জুন নাহার হিমাগার বকেয়া কমিশন না পেয়ে এজেন্টদের মানবেতর জীবনযাপন

2026-03-03 23:30:07

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রংপুরের পীরগাছা উপজেলার দেউতি বাজারে অবস্থিত মোতাহার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ‘ফয়জুন নাহার হিমাগারে’ কর্মরত প্রায় ৮০ জন কমিশন এজেন্টের জীবনে নেমে এসেছে ঘোর অন্ধকার। ২০২৫ সালের আলুর মৌসুম শেষ হয়ে ২০২৬ সালের নতুন মৌসুম শুরু হলেও গত বছরের অর্জিত পারিশ্রমিক বা কমিশন এখনো পরিশোধ করেনি মালিকপক্ষ। পবিত্র মাহে রমজানের এই সময়ে পাওনা টাকা না পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

দীর্ঘদিনের নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ

ভুক্তভোগী এজেন্টদের অভিযোগ, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতি বছর মৌসুম শেষে এজেন্টদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার রেওয়াজ থাকলেও গত বছর থেকে অজ্ঞাত কারণে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। হিমাগারটির দুই ইউনিট মিলে ধারণ ক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৭০ বস্তা। দিনরাত পরিশ্রম করে ধারদেনা ও হাড়ভাঙা খাটুনির মাধ্যমে স্টোর ভর্তি করলেও পাওনা পাওয়ার বেলায় মালিকপক্ষের উদাসীনতা তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে।

সিনিয়র এজেন্ট মো. আজিরুদ্দীন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মালিকপক্ষ দীর্ঘ সময় ধরে গরিব শ্রমিকদের রক্ত চুষে আসছে। ২০২৫ সালের পাওনা এখনো দেয়নি, অথচ নতুন মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। আমরা এখন অসহায়। আরেক এজেন্ট এনামুল হক আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন,”সামনে ঈদ, অথচ ঘরে খাবার নেই। রমজানের এই কষ্টের দিনেও মালিকপক্ষ চুপ। অবিলম্বে আমাদের ন্যায্য পাওনা না দিলে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সাথে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

এজেন্ট মোজাবুর রহমানের দাবি অনুযায়ী, মালিকপক্ষের সাথে চুক্তি ছিল দুই ক্যাটাগরিতে কমিশন দেওয়ার, ১ থেকে ৩ হাজার বস্তা: প্রতি বস্তায় ১৫ টাকা। ৩ হাজার বস্তার বেশি: প্রতি বস্তায় ৩০ টাকা। তবে হিমাগার ম্যানেজার বাহার উদ্দিন এই দাবি অস্বীকার করে জানান, কমিশন ক্যাটাগরি অনুযায়ী নয়, বরং নির্ধারিত ১৫ টাকা করেই দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, তাদের কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী আগামী আগস্ট মাসে পাওনা পরিশোধের কথা। স্থানীয় অন্যান্য সকল হিমাগার মালিক ইতিমধ্যে কমিশন পরিশোধ করে দিয়েছেন, তবে ফয়জুন নাহার হিমাগার কেন পিছিয়ে? এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

বর্তমানে ২০২৬ সালের আলুর মজুদ শুরু হলেও গত বছরের হিসাব নিকাশ পর্যন্ত সম্পন্ন করেনি হিমাগার কর্তৃপক্ষ। পাওনা আদায়ের দাবিতে এজেন্টদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেক এজেন্ট ক্ষোভে স্টোরে মাল ঢোকানোয় অসহযোগিতা করছেন। দ্রুত সমাধান না হলে স্থানীয় এই বৃহত্তম হিমাগারটির ব্যবসায়িক কার্যক্রমে স্থবিরতা আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এজেন্টদের দাবি একটাই - পবিত্র ঈদের আগেই যেন তাদের ঘাম ঝরানো পারিশ্রমিক বুঝিয়ে দেওয়া হয়, যাতে তারা পরিবার নিয়ে অন্তত দুই মুঠো ডাল-ভাত খেয়ে ঈদ পালন করতে পারেন।