গঙ্গাচড়ায় দুই ইউনিয়নে পুরোহিত ও সেবায়েত নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ক্ষোভ

2026-03-10 02:32:06

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় বেতগাড়ী ও বড়বিল ইউনিয়নের দুটি মন্দিরে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পুরোহিত ও সেবায়েত নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তারা প্রকৃতপক্ষে পুরোহিত নন। এ ঘটনায় সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, মন্দিরে দায়িত্ব পালনকারী পুরোহিতকে মাসিক ৫ হাজার টাকা এবং সেবায়েতকে ৩ হাজার টাকা ভাতা প্রদান করা হবে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সরকারি ভাতাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়াতেই যথাযথ যাচাই-বাছাই না করে কিছু ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেতগাড়ী এলাকার চারআনী শেরপুর সার্বজনীন হরি মন্দিরে পুরোহিত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বিনোদ চন্দ্র রায়কে। তিনি মানিক রায়ের পুত্র। অন্যদিকে বড়বিল ইউনিয়নের ঠাকুরাদহ রাধাগোবিন্দ মন্দিরে সেবায়েত হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন শ্রী যোগেশ চন্দ্র রায়, পিতা কোনারাম রায়।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিয়োগ পাওয়া এই দুই ব্যক্তি কেউই প্রকৃত পুরোহিত বা পূজারী নন। তারা দীর্ঘদিন ধরে মন্দিরের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না বলেও দাবি করেন এলাকাবাসী। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় অসন্তোষ ও ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

ধর্মীয় শাস্ত্র অনুযায়ী, পূজারী বা পুরোহিত হলেন হিন্দু মন্দিরের ধর্মযাজক, যিনি মন্দিরে পূজা-অর্চনা, আরতি, মূর্তির সেবা-যত্নসহ নিত্যকর্ম পরিচালনা করেন। স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতে, এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়ার আগে ধর্মীয়ভাবে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের বাছাই করা প্রয়োজন ছিল।

এ বিষয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ বলেন, “পুরোহিত নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের আমাদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল। কিন্তু আমাদের মতামত না নিয়েই এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

তাদের অভিযোগ, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা ধর্মীয় রীতিনীতি ও স্থানীয় প্রথার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

অন্যদিকে বড়বিল ইউনিয়নের ঠাকুরাদহ রাধাগোবিন্দ মন্দিরে সেবায়েত হিসেবে নিয়োগ পাওয়া শ্রী যোগেশ চন্দ্র রায় বলেন, “আমার কাকিমা নিয়মিত মন্দিরে পূজা-অর্চনা করেন। তবে মহিলা মানুষের নাম দেওয়া ঠিক হবে না মনে করে আমার নাম দেওয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, “উপজেলায় দুটি মন্দিরে পুরোহিত নিয়োগের জন্য নাম চাওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী আমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে সম্ভাব্য ব্যক্তিদের নাম সংগ্রহ করি। যেসব এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বসবাস বেশি, সেখান থেকে নাম পাঠানো হয়েছিল। সেই তালিকার ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট দুইজনের নাম আমরা পাঠিয়েছি। তবে সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করা সম্ভব হয়নি। পর্যায়ক্রমে সব মন্দিরই এই সুবিধার আওতায় আসবে।”

স্থানীয়রা বলছেন, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত পুরোহিত ও সেবায়েত নিয়োগ নিশ্চিত করা হলে এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে বিরাজমান অসন্তোষ দূর হবে।