নেপথ্যে এমপিকে ৩০ পার্সেন্ট দিতে অস্বীকৃতি! জেল গেটে ফের গ্রেফতার ইউ-পি চেয়ারম্যান!

2026-03-17 20:36:43

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার মদাতী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লবকে আবারও গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে তাকে লালমনিরহাট জেল গেট থেকে গ্রেফতার করেন ডিবি পুলিশের একটি দল। এর আগে ১১ মার্চ তার বাড়ি থেকে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। সোমবার সেই মামলায় জামিন হয় এবং মঙ্গলবার সকালে কারগার থেকে ছাড়া পায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জামিনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে আজ সকালে কারামুক্ত হন জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লব। জেলগেটে তার আইনজীবী ও আপন ভাই অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কাজলসহ সমর্থকরা তাকে অভ্যর্থনা জানিয়ে গাড়ির দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে ডিবি পুলিশের একটি দল তাদের পথ আটকে দেয়। এরপর পাশ থেকে আরও তিনজন পোশাকধারী ডিবি পুলিশ সদস্য এসে তাকে টেনে-হিঁচড়ে পুলিশের গাড়িতে তুলতে শুরু করেন। এ সময় আইনজীবী ও সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়।

এদিকে চেয়ারম্যানকে আটকের পরপরই ভিজিএফ চাল নিয়ে লালমনিরহাট-২ (কালীগঞ্জ-আদিতমারী) আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল বাবদ ৩০ পার্সেন্ট চাওয়া নিয়ে দুই বিএনপি নেতা ও ওই চেয়ারম‌্যানের দুইটি কলরেকর্ড ফাঁস হয়। সেই কল রেকর্ডে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সবুজ ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক বিধান চন্দ্র রায়ের সঙ্গে মদাতী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লবের কথা উঠে আসে। গত ১২ মার্চ ছড়িয়ে পড়া ওই কল রেকর্ডে সবুজ চেয়ারম্যান বিপ্লবকে বলেন, “এমপি সাহেবের থার্টি পার্সেন্ট আপনি বুঝিয়ে দিয়েছেন?” জবাবে বিপ্লব বলেন, “এ বিষয়ে আমরা মিটিং করেছি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন।”

এরপর সবুজ রাগান্বিত কণ্ঠে বলেন, “বিনা ভোটের এমপি যখন ছিলো তাদেরকে তো সুন্দরভাবে বুঝাইয়া দিছেন। আমরা কিন্তু বিনা ভোটে হই নাই। আমরা অতীত ভুলি নাই। আমাদের বরাদ্দ নিয়ে আপনি কীভাবে মিটিং করেন? এ হাজার তিনটি টোকেন বুঝিয়ে দেবেন।”

ভিজিএফ চালের বিষয়ে বিএনপি নেতা বিধান চন্দ্র রায়ের সঙ্গেও চেয়ারম্যান বিপ্লবের একই রকম কথা হয়। সেখানেও এমপির ৩০ পার্সেন্ট বুঝিয়ে দিতে বলা হয়।

ওই অডিও ফাঁসের পর থেকেই জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং এরপর থেকেই এই জনপ্রতিনিধির ওপর আইনি চাপ বাড়তে থাকে বলে স্থানীয় মহলে আলোচনা রয়েছে।

তবে কালিগঞ্জ থানার ওসি আবু সিদ্দিক বলেন, বিধান ও সবুজের ফাঁস হওয়া ফোন কল রেকর্ডের সঙ্গে চেয়ারম‌্যান জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লবের আটকের কোনও সম্পর্ক নাই। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য সন্ত্রাসীদের সুসংঘটিত করছিলেন তিনি। তাকে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে আটক করা হয়েছে।

ভিজিএফ চালের ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যানকে পুলিশ আটক করেছে এমন অভিযোগ নাকচ করেছেন উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও ফাঁস হওয়া রেকর্ডের একজন বিধান চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, ফোন রেকর্ড ফাঁস কিংবা চালের সঙ্গে আটকের কোনও সম্পর্ক নেই। ওর নামে মামলা ছিলো। পুলিশ তাকে আটক করেছে। এটা পুলিশ আর চেয়ারম্যান বুঝবে।

লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ ইসলাম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কোন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে তা স্পষ্ট করেননি তিনি। ওসি জানান, কোন মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে তা পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত জানানো হবে।