ঘোড়াঘাট, প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মোনয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে এক সেবাগ্রহীতার স্বজন ও পেশাগত দায়িত্ব পালনরত একজন সাংবাদিককে প্রকাশ্যে ‘দালাল’ ও ‘পাগল’ বলে গালিগালাজসহ চরমভাবে হেনন্তা করার অভিযোগ উঠেছে।
(১৫ মার্চ) রবিবার ঘটে যাওয়া সংশ্লিষ্ট ওই ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিকবার ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠলেও রহস্যজনক কারণে তিনি বহাল তবিয়তে রয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা কবিতা রানী সাহার নামে সম্প্রতি ৮২ হাজার ১৪৭ টাকা বকেয়া পরিশোধের একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। তবে উক্ত নোটিশে কবিতা রানীর স্বামী বিকাশ সাহার নামের পরিবর্তে দেবর নামে প্রকাশ সাহার নাম উল্লেখ করা হয়।
সরকারি নথিপত্রে এমন গুরুতর ভুল এবং বকেয়া টাকার হিসাব নিয়ে চরম অসঙ্গতি দেখা দিলে গত ১৫ মার্চ বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে ব্যাংকে যান প্রকাশ সাহা। তার সাথে ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে একজন শিক্ষানবিশ আইনজীবী ও সংবাদকর্মী সেখানে উপস্থিত হন।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, লিগ্যাল নোটিশের ভুল এবং ঋণের কিস্তির হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই শাখা ব্যবস্থাপক মোনয়ার অগ্নিশর্মা হয়ে ওঠেন। তিনি তথ্যের সঠিক ব্যাখ্যা না দিয়ে উল্টো উপস্থিত সাংবাদিককে লক্ষ্য করে উচ্চস্বরে ‘দালাল’ ও ‘পাগল’ বলে সম্বোধন করেন।
এ সময় তিনি প্রকাশ সাহাকেও চরমভাবে অপদস্থ করেন এবং অফিস কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্য করেন। একজন সরকারি কর্মকর্তার ও কুরুচিপূর্ণ আচরণে সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষ হতভম্ব হয়ে পড়েন।
ভুক্তভোগী কবিতা রানী সাহা অভিযোগ করে বলেন, "ব্যাংকের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা বিভিন্ন সময় আমাদের বাড়ি গিয়ে কিস্তির টাকা সংগ্রহ করে নিয়ে যেতেন। অথচ সেই টাকা ব্যাংকের মূল হিসাবে জমা না দিয়ে আস্তসাৎ করা হয়েছে। উল্টো এখন আমার স্বামীর নামের জায়গায় দেবরের নাম বসিয়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আমার দেবর যখন এই ভুলের বিষয়ে জানতে গেল, তখন ম্যানেজার সাহেব তাকে ও সাংবাদিক ভাইকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। তিনি মূলত নিজের অফিসের দুর্নীতি ঢাকতেই এই আক্রমনাত্বক আচরণ করেছেন।
বিষয়টা জানতে সোমবার (১৫ মার্চ) দ্বিতীয়বারের মত সাংবাদিকদের ৬/৭ জনের একটি দল ওই কর্মকর্তার কাছে গিয়ে ঘটনার সততা জানতে চাইলে তিনি পুর্র্বের ন্যায় খারাপ ব্যবহার করেন। গতকালের কথা অস্বীকার করেন এবং বলেন আমার ছেলের ফর্ম ফিলাপ ছিল আমার মাথার ঠিক ছিল না।
বাড়ির রাগ অফিসে এসে সাংবাদিক ও সেবা গ্রহীতাদের দেখাবেন এমন প্রশ্নে তিনি আবারও রেগে যান উপস্থিত সকল সাংবাদিকদের সাথে খারাপ আচারন করেন। নোটিশ করা হয়েছে টাকা পরিশোধ করে যান সবাই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাংকের একজন কর্মচারী জানান, ওই ম্যানেজারের ব্যবহার অত্যন্ত রুক্ষ এবং তিনি প্রায় সময় সেবাগ্রহীতা ও সহকর্মীদের সাথে তুচ্ছ কারণে খারাপ আচারন করেন। বিষয়টি নিয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জানান, ভিডিও ফুটেজটি তিনি দেখবেন, দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের অফিস গেছেন, ফিরে এসে ব্যবস্থা নেবেন।
এ বিষয়ে দিনাজপুর পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক জেলা আঞ্চলিক অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ভিডিও পাঠান আমরা মৌখিক ভাবে তাকে সতর্ক করবো। অপরদিকে সেবা গ্রহীতা লিখিত অভিযোগ দিলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের করবেন বলে জানান। এখানেও এ কর্মকর্তার দায়সারা মনোভাব প্রকাশ পাওয়া যায়।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনকারী এই কর্মকর্তার দম্ভের আড়ালে বড় ধরণের কোনো আর্থিক জালিয়াতি লুকিয়ে আছে। অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তসহ তাকে অপসারণ করার মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারকে হয়রানি থেকে মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।