হিলিতে বিদেশি সবজি ক্যাপসিকাম চাষে অভাবনীয় সফলতা

2026-03-28 22:27:20

মোঃ আব্দুল আজিজ, হিলি:

দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী উপজেলা হিলিতে মাটির গুণাগুণ আর কৃষকের নিবিড় পরিচর্যায় বদলে যাচ্ছে কৃষিচিত্র। প্রথবারের মতো হিলিতে বানিজ্যিকভাবে চাষ হয়েছে বিদেশি সবজি ক্যাপসিকাম। অন্যান্য ফসলের চেয়ে ক্যাপসিকাম চাষের খরচ কম, লাভ কয়েক গুণ বেশি। মাঠজুড়ে শোভা পাচ্ছে লাল, হলুদ আর সবুজ রঙের ক্যাপসিকাম। বিদেশি এই সবজি চাষ করে বাজিমাত করেছেন স্থানীয় অনেক উদ্যোক্তা। ক্যাপসিকাম চাষ বাড়াতে চাষিদের উদ্বুদ্ধও করছেন উপজেলা কৃষি বিভাগ।

হিলির ক্যাপসিকাম চাষী গাউসুল আযম জানান, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনি শিক্ষার্থী, পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করে আসছেন। ইউটিউব থেকে ধারণা নিয়ে এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শে তিনি পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ২০ শতাংশ জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ শুরু করেন। চারা রোপণের ৬৫ দিনের মধ্যেই গাছে ফুল আসতে শুরু করে। বর্তমানে প্রতিটি গাছেই ফুল ও ফল দেখা যাচ্ছে। ২০ শতাংশ জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ করতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। বর্তমানে চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ও ফাস্টফুড দোকানগুলোতে এই ক্যাপসিকাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে এবং রোগবালাই না হলো এই জমিতে ক্যাপসিকাম বিক্রি করে আয় হবে প্রায় তিন লাখ টাকা।

কথা হয় কয়েকজনের সাথে, তারা জানান, গাউসুল আজমের এমন সাফল্য দেখে স্থানীয়দের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ তার ক্যাপসিকাম ক্ষেত খেতে আসছেন। নিচ্ছেন নানান পরামর্শ। আগামীতে তারা ক্যাপসিকাম চাষাবাদ করবেন। 

এদিকে হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম জানান, দিনাজপুর অঞ্চলের টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ক্যাপসিকাম, উচ্চমূল্যের বিভিন্ন সবজি চাষে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। চলতি মৌসুমে হাকিমপুর উপজেলায় প্রায় ৪০ শতাংশ জমিতে ক্যাপসিকামসহ বিভিন্ন উচ্চমূল্যের সবজি চাষ হয়েছে। আগামীতে আরো বৃদ্ধি হবে বলে আশা স্থানীয় কৃষি বিভাগের।