দিনাজপুর প্রতিনিধি:
জ্বালানী তেল নিয়ে যেই মুহুর্তে চলছে উদ্বেগ আর উৎকন্ঠা, ঠিক সেই মুহুর্তে একশ্রেনীর অসাধু মানুষ অবৈধভাবে তেল মজুত ও বেশী দামে বিক্রির চেষ্ঠা চালাচ্ছে। দিনাজপুরে এসব অসাধু ও অবৈধভাবে মুনাফালোভীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। অভিযানে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় এক মুদি ব্যবসায়ীর দোকান থেকে উদ্ধার করেছে এক’শ লিটারেরও বেশী পেট্রোল ও অকটেন এবং ঘোড়াঘাটে ওয়ার্কশপের দোকান থেকে উদ্ধার করে ১ হাজার ৬’শ লিটার ডিজেল। পরে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে খানসামায় মুদি দোকানদার জুয়েল রানাকে একমাসের কারাদন্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হলেও পালিয়েছে ঘোড়াঘাটের ওয়ার্কশপ দোকান মালিক আব্দুস সালাম।
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার গোয়ালডিহি ইউনিয়নের ভুল্লার ডাঙ্গা বাজারে অভিযান চালিয়ে মুদি ব্যবসায়ী জুয়েলের দোকান থেকে ১০০ দশমিক ৫ লিটার পেট্রোল ও অকটেন জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে অভিযান পরিচালনা করেন খানসামা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অয়ন ফারহান শামস। অভিযানকালে জ¦ালানি তেল মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির দায়ে মুদি ব্যবসায়ী জুয়েল রানাকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এসময় জব্দকৃত জ¦ালানি তেল সরকার নির্ধারিত মূল্যে মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে বিক্রি করা হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) অয়ন ফারহান শামস বলেন, অবৈধভাবে সংগ্রহ করে মুদি দোকানদার জুয়েল রানা বেশী দামে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি করছিলো। গোপন সুত্রে এমন খবর পেয়ে তাঁর মুদির দোকানে অভিযান পরিচালনা করে ১০০ দশমিক ৫ লিটার পেট্রোল ও অকটেন উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, জনগণের ভোগান্তি ও হয়রানি কমাতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এদিকে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ওয়ার্কশপের দোকান থেকে অবৈধভাবে মজুত রাখা ১ হাজার ৬০০ লিটার ডিজেল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুর ১২টায় উপজেলার আজাদ মোড় এলাকার আব্দুস সালামের ওয়ার্কসপের দোকান থেকে এসব ডিজেল জব্দ করা হয়।
ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবানা তানজিন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি, একটি ওয়ার্কশপের দোকানে বিপুল পরিমাণ ডিজেল মজুত রাখা হয়েছে। পরে সেখানে ফায়ার সার্ভিস, থানা পুলিশসহ যৌথ অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৬০০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। এ সময় দোকানের মালিক আব্দুস সালাম পালিয়ে যান। জব্দ ডিজেল নিলামের মাধ্যমে বিক্রয় করে আদায়কৃত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা হবে। তেল মজুত রেখে কোনো ব্যবসায়ী যেন সংকট তৈরি করতে না পারে সেই লক্ষে জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।