পীরগঞ্জে ধান চষে পানিসাশ্রয়ী এডব্লিউডি প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষকের সাফল্য

2026-04-01 19:38:04

পীরগঞ্জ(ঠাকুরগাঁও)প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে ধান চষে পানিসাশ্রয়ী (এডব্লিউডি)প্রযুক্তি ব্যবহারে করে অন্তর দেবনাথ নামের এক কৃষকের সাফল্যের উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।

উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের বাঁশগাড়া গ্রামের চাষি অন্তর দেবনাথ কৃষি অফিসের পার্টনার ফিল্ড স্কুলের প্রশিক্ষণ নিয়ে পানিসাশ্রয়ী এডব্লিউডি প্রযুক্তি ব্যবহারে করে এই উদাহরণ সৃষ্টি করেন।

কৃষি অফিস জানায়, ধান উৎপাদনে পানি বা সেচ প্রদান আবশ্যক। ধান ক্ষেতে পানিসাশ্রয়ী করতে এডব্লিউডি (অল্টারনেটিভ ওয়েটিং অ্যান্ড ড্রাইং বা পর্যায়ক্রমে জমি ভেজানো ও শুকানো) প্রযুক্তি অনেক কার্যকরী। পানি সাশ্রয়ী সেচ পদ্ধতে ১০ ইঞ্চি একটি পিভিসি পাইপ ব্যবহার করে জমিতে পর্যায়ক্রমে পানি দেওয়া ও শুকানোর মাধ্যমে পরিমিত সেচ নিশ্চিত করা হয়। এতে, ভূগর্ভস্থ পানির অপচয় না করেই ধানের কাক্সিক্ষত ফলন পাওয়া যায়। এই পদ্ধতিতে ১০ ইঞ্চি পিভিসি পাইপের ৬ ইঞ্চি ছিদ্রযুক্ত অংশ মাটির নিচে থাকে। চারা রোপণের ১২-১৫ দিনের মধ্যে জমিতে চারটি ধানের গোছার মাঝখানে এডব্লিউডি পাইপ বসিয়ে পাইপের তলা পর্যন্ত মাটি তুলে নিতে হয়। একবার সেচ দেওয়ার পর যতক্ষণ পর্যন্ত পাইপের তলায় বা ভিতরে পানি দেখা যাবে, ততক্ষণ নতুন করে সেচের প্রয়োজন হয় না। ধানের থোড় আসা পর্যন্ত এভাবে সেচ দেওয়া হয়। ধানের ভালো ফলন পেতে হলে থোড় আসা থেকে দানা শক্ত হওয়া পর্যন্ত জমিতে হালকা পানি রাখতে হয়। এ পদ্ধতি ব্যবহারে বোরো ধানে সাধারণত ২৫-৩০% পর্যন্ত পানি সাশ্রয় হয়, অপদিকে

ফলনের কোন তারতম্য হয় না, উপরন্তু পানি ও জ্বালানি (বিদ্যুৎ, ডিজেল ইত্যাদি) সাশ্রয় হয়। সর্বোপরি এটি একটি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি।

কৃষক অন্তর দেবনাথ বলেন, এডব্লিউডি প্রযুক্তি সম্পর্কে আমি পূর্বে অবগত ছিলাম না। কৃষি অফিসের সহযোগিতা পার্টনার ফিল্ড স্কুলের প্রশিক্ষণ নিয়ে দুই একর জমিতে ১০২ জাতের বোরো ধান চাষ করি। পানির সেচ কমাতে এডব্লিউডি প্রযুক্তি ব্যবহারে করি। এতে উচ্চ সেচ খরচ কমে যায়। অন্যদিকে ধান গাছ ভাল বৃদ্ধি হয়, ধান গাছে কুশির সংখ্যা বাড়ে, পানিতে ডুবে না থাকায় মিথেন গ্যাস নির্গমন কমে যায়, মাটি শুকানোর সুযোগ থাকায় শিকড় পচা রোগ কমে যায়, মাটি সুস্থ থাকায় তুলনামূলকভাবে ধানে ফলন বেশি পাই। পরবর্তীতে কৃষি অফিসের তত্ত্ববোধনে একশত কেজি বীজ সংরক্ষণ করি, যা পরবর্তীতে ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রয় করে অনেক লাভবান হই। আমার এই কার্যক্রম দেখে এলাকার অনেক কৃষক উদ্বুদ্ধ হয়ে এই প্রযুক্তিতে ঝুকছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ নাজমুল হাসান জানান, সেচের পানি জমিতে সরবরাহের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি এটি, যা পানির অপচয় কমায় এবং মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। এতে পানির সাশ্রয় হয়, ভূমিক্ষয় রোধ হয় রোগের প্রকোপ কমে। ফলস্বরূপ, কৃষকরা উচ্চমানের ফলন পাচ্ছেন এবং পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব কমছে।

এডব্লিউডি প্রযুক্তি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেলে সেচের পানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় হবে। একইসঙ্গে কৃষকের সেচ খরচ কমে ধানের ফলন বৃদ্ধি পেয়ে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে। এতে পরিবেশ দূষণ, এবং মরুময়তা রোধ হবে। আমরা ভূ-গর্ভস্থ পানির অপচয় রোধ করতে কৃষকদেরকে পর্যায়ক্রমিক ভেজানো ও শুকানো পদ্ধতিতে জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছি।