এনসিপির আল্টিমেটাম ঘিরে উত্তেজনা: গঙ্গাচড়ায় চেয়ারম্যান পুনর্বহাল নিয়ে বিতর্ক

2026-04-04 00:54:10

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা ও নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত মোঃ মোহাইমিন ইসলাম মারুফের পুনর্বহালকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা, ক্ষোভ ও রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় ছাত্র-জনতা, সচেতন মহল এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা এ সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত সহিংসতার একটি মামলায় মোহাইমিন ইসলাম মারুফের নাম এজাহারে অন্তর্ভুক্ত হয়। এরপর তিনি আত্মগোপনে ছিলেন এবং পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন। জামিনে মুক্তি পেলেও দীর্ঘদিন ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে অনুপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তার অনুপস্থিতিতে পরিষদের কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিলে ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল জেলা প্রশাসনের নির্দেশে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তবে সম্প্রতি প্রশাসনের এক সিদ্ধান্তে তাকে পুনরায় চেয়ারম্যান পদে বহাল করা হলে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—একজন মামলার আসামি ও দীর্ঘদিন দায়িত্বে অনুপস্থিত ব্যক্তি কীভাবে পুনরায় দায়িত্বে ফিরলেন?

এদিকে তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, তিনি আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সভাপতির পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে পরবর্তীতে বিএনপিতে যোগ দেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আন্দোলনের সময় যারা জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন, তাদের পুনর্বহাল সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রহসনের শামিল। তারা আরও বলেন, আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় এমন সিদ্ধান্ত প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর যুগ্ম সমন্বয়কারী (দপ্তর) জীবন হোসাইন বলেন, “গত ১৭ বছর আওয়ামী শাসনামলে বেতগাড়ী ইউনিয়নে নির্যাতনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন মোহাইমিন ইসলাম মারুফ।” তিনি আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, “দল পরিবর্তন করে সুবিধা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।”

অভিযোগের বিষয়ে মোহাইমিন ইসলাম মারুফ বলেন, “আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যান। সরকারি নির্দেশে দায়িত্ব থেকে সরে গিয়েছিলাম এবং একইভাবে পুনর্বহাল হয়েছি। এখানে ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নেই।”

উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী বেলাল বলেন, “তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এখন তাকে বিএনপিতে নেওয়ার মাধ্যমে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, যা আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করতে পারে।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, “জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরিত অনুলিপি আমরা পেয়েছি। বিভিন্ন মাধ্যমে তার যোগদানের বিষয়টি শুনেছি।