হলফনামায় কন্যা ত্যাজ্য, এলাকায় তোলপাড়

2026-04-06 21:53:53

চিলমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি:

কন্যার বিরুদ্ধে ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে তাকে ত্যাজ্য ঘোষণা করেছেন মো. আয়নাল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। এ সংক্রান্ত একটি হলফনামা ঢাকা নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সম্পাদন করে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন তিনি, যা নিয়ে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনা। আয়নাল ইসলাম কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার দক্ষিণ খড়খড়িয়া দালালি পাড়ার বাসিন্দা।

হলফনামা সূত্রে জানা যায়, মোছা: আশুরা আক্তার আফি প্রায় দুই বছর আগে ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী নিজ ইচ্ছায় পশ্চিম খড়খড়িয়া এলাকার মো. আবু হোরায়রা সোহেলের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে বিবাহের পর থেকেই তার আচরণে পরিবর্তন দেখা যায় বলে অভিযোগ করেন তার পিতা।

আয়নাল ইসলামের দাবি, কন্যা ধীরে ধীরে ইসলামবিরোধী মনোভাব গ্রহণ করে এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে, যা পরিবারকে সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে। একাধিকবার তাকে বুঝিয়ে সঠিক পথে ফেরানোর চেষ্টা করা হলেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি বলে তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেন।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, গত ১৫ জানুয়ারি তিনি স্বামীর বাড়ি থেকে দক্ষিণ খড়খড়িয়া এলাকার মো. মিজানুর রহমান নামে এক যুবকের সঙ্গে চলে যান। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে কন্যার সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেন পিতা।

পরবর্তীতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করতে চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি ঢাকা নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে হলফনামা (নং-০১২৮/২০২৬) সম্পাদন করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আনিছুর রহমান বলেন,‘মেয়েটির বেপরোয়া আচরণে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ। স্বামী থাকাকালীন অন্য ছেলের সঙ্গে চলে যাওয়ায় সামাজিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এটি শুধুমাত্র পারিবারিক বিষয় নয়, পুরো এলাকা এই ঘটনাকে নিয়ে আলোড়িত।’

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই এটিকে পারিবারিক দ্বেদ্বর ফল হিসেবে দেখছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোছা: আশুরা আক্তার আফি’র সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল বন্ধ থাকায় কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট মো. মোখলেছুর রহমান জানান,‘হলফনামা সামাজিকভাবে আলোড়ন তুললেও এর আইনি কার্যকারিতা সীমিত। তবে এমন পদক্ষেপ পরিবার ও সমাজে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।’