পীরগঞ্জে ভূমিদস্যু মাসুম আকন্দ ও ওসি তদন্ত নাহিদ ইসলামে’র বিরুদ্ধে মানববন্ধন

2026-04-08 20:18:57

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:

রংপুরের পীরগঞ্জে আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে কোটি টাকা মুল্যের জমি দখল করায় যুবলীগ নেতা মাসুম আকন্দ ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন না করায় ওসি (তদন্ত) এর বিরুদ্ধে মানববন্ধন সমাবেশ করেছে ভূক্তভোগী পরিবার।

বুধবার দুপুরে পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্য তৌহিদুল ইসলাম মন্ডল, সাংবাদিক কবি-সাহিত্যিক স্বাপ্তাহিক বজ্রকথা’র সম্পাদক ও প্রকাশক সুলতান আহমেদ সোনা, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, পৌর বিএনপি নেতা আব্দুল করিম সরকার,  পৌর যুবদল নেতা একরামুল হক প্রমুখ।

ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, ৯৩৬০ দলিলে ১৯৮৭ সালে হুজুর আলী মন্ডল ও ১৯৯৪ সালে ৩৫৬৫ দলিলে মোখলেছার রহমানের নিকট থেকে মৃত তসলিম উদ্দিন মন্ডল ওসমানপুর মৌজায় ১০৯১ দাগে ২২.৫ শতক জমি ক্রয় করে। ৩৯ বছর ধরে মরহুম তসলিম উদ্দিন ওরফে ভূলু মন্ডল এবং তার ওয়ারিশরা ওই জমি ভোগদখল করে আসছিল। নিয়মিত খাজনা-খারিজ পরিশোধ সহ ৬১৬ নম্বর খতিয়ানে বর্তমান মাঠ রেকর্ড ও পিন পর্চা রয়েছে তসলিম উদ্দিনের নামে। বর্ণিত দাগে চার লেন মহাসড়কে ৪ শতক জমি অধিগ্রহণ করা হয়। অধিগ্রহনকৃত জমির অর্থ উত্তোলন করতে গিয়ে মাসুদ আকন্দ গং রংপুর ডিসি অফিসে শরিক হিসাবে আপত্তি দাখিল করেন।

একাধিকবার আপত্তি শুনানি নিষ্পত্তি’র পর তছলিম উদ্দিনের ওয়ারিশদের নামে অধিকরণের প্রাপ্ত অর্থের চেক ইস্যু করেন রংপুর ডিসি অফিসের জমি অধিকরণ শাখা। বিগত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারী হঠাৎ মাসুম আকন্দ গংরা জমির চতুর্দিকে টিনের বেড়া দিয়ে জমি দখল নিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। মৃত তসলিম উদ্দিনের ছেলেরা  অবৈধভাবে জমি দখলের বিরুদ্ধে পীরগঞ্জ থানায় অভিযোগ দাখিল করেন। থানা পুলিশ আদালতে মামলার পরামর্শ দেয়। নিরুপায় হয়ে তছলিম উদ্দিনের ছেলে রাশেদুল ইসলাম মন্ডল অতিরিক্ত বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪/১৪৫ ধারায় মামলা রুজু করেন। আদালতের নির্দেশনা পেয়ে ভারপ্রাপ্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শামীম হোসাইন আদালতে সরেজমিন প্রতিবেদন দাখিল করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্ণিত দলিল মূলে, বর্ণিত দাগে মরহুম তসলিম উদ্দিন মন্ডল ভোগ দখল করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশগণের ভোগ দখলে ছিল। প্রতিপক্ষ মাসুম আকন্দ গং নালিশি জমি বেদখলের চেষ্টা করেন, বাদী পক্ষদের শারীরিকভাবে প্রহার করেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রতিপক্ষ দাঙ্গাবাজ ভূমিদস্যু, অন্যের জমি বেদখল দেওয়াই তাদের নেশা। পূর্ব থেকে ভোগ দখলকারী মৃত্যুবরণ করায় এবং সম্প্রতি দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর একদল দাঙ্গাবাজ জমিটি জোরপূর্বক বেদখল দেয়। মামলার প্রার্থী প্রাণনাথের ভয়ে জমিতে যেতে পারছে না। দীর্ঘদিন  যাবত মামলার বাদির পিতা সহ বর্তমান ওয়ারিশদের ভোগ দখলে ছিল জমিটি। প্রতিপক্ষ হুমকি ও পেশী শক্তির কারণে দখল বজায় রাখতে পেরেছেন। মরহুম তসলিম উদ্দিন মন্ডলের নামে ১৫৭৮ নামজারি খতিয়ানে ১৬৩৭ হোল্ডিং এ ২০২৪- ২০২৫ অর্থবছর পর্যন্ত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ রয়েছে।

এদিকে আদালত গত ১২/১১/২০২৫ তারিখে রংপুরের বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ১৪৪/১৪৫ ধারা (২৭৫/২৫) রায় প্রদান করে জানান, জমিতে প্রতিপক্ষ গং দের প্রবেশাধিকারে বারিত করা হয়। ওসি পীরগঞ্জ থানাকে আদেশ বাস্তবায়নে নির্দেশ প্রদান করা হলো। এদিকে, দখলের চেষ্টার শুরুতেই থানার শ্বরণাপন্ন তৌহিদুল ইসলাম মন্ডল ও রাশেদুল ইসলাম মন্ডলের অভিযোগ তদন্তে নামেন পীরগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত নাহিদ ইসলাম। উনি ন্যায় বিচার বা অবৈধ দখল চেষ্টা প্রতিহত না করে তদন্ত ও আপষ-মীমাংসার একাধিক বৈঠক বসান। সে সময়ে ভুমিদস্যু মাসুম আকন্দ কিছু দলিল উপস্থান করলে তা জাল হিসেবে প্রমাণিত হয়।

 বৈঠক-মিমাংসার অজুহাতে কালক্ষেপণ করে প্রতিপক্ষকে জমিতে অবকাঠামো নিমার্ণে সুযোগ দিয়েছে। শক্তভাবে জমি দখলে নিতে দীর্ঘ সময় পেয়েছে প্রতিপক্ষ। মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে তিনি এমনটা করেছেন মর্মে মানববন্ধনে অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়। পৌর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মেয়র প্রার্থী শহিদুল ইসলাম সেবু’র আপন মামা মৃত তছলিম উদ্দিন ওরফে ভুলু মন্ডল। সেবু মন্ডল জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপি’র আহবায়ক সাইফুল ইসলামের আপন ভাতিজি জামাই। বিএনপি সরকারের সময়ে বিএনপি স্বজনদের জমি বে-দখল এবং থানা পুলিশি থেকে সহায়তা না পাওয়ায় বিএনপি নেতৃবৃন্দ্ব ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এদিকে তছলিম উদ্দিনের পরিবারকে ন্যায়বিচারে একাধিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জামাত নেতৃবন্দ্বরাও। স্বয়ং পীরগঞ্জ আসনের এমপি’ মাওলানা নুরুল আমিনও এ বিষয়ে ওসি তদন্ত নাহিদ ইসলামকে মুঠোফোনে নির্দেশনা দিলেও কালক্ষেপনে বাধা পড়েনি।