গঙ্গাচড়ায় দায়সারা বিজ্ঞান মেলা: বরাদ্দ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

2026-04-21 01:51:22

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সংবাদ প্রকাশের পর তড়িঘড়ি করে আয়োজন, সীমিত অংশগ্রহণ ও ফাঁকা স্টল—এসবের মধ্যেই রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের বিজ্ঞান মেলা। দুই দিনব্যাপী এ মেলা সোমবার (২০ এপ্রিল) শেষ হলেও শুরু থেকেই আয়োজনের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

উপজেলা প্রশাসনের একাধিক সূত্রে জানা যায়, মেলার জন্য সরকারি বরাদ্দ ৭০ হাজার টাকার মতো হতে পারে। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা মাল্টিপারপাস হলরুমে মাত্র ১৩টি টেবিল দিয়ে স্টল সাজানো হয়, যার মধ্যে উদ্বোধনী দিনে ৫টি স্টল ফাঁকা ছিল। দ্বিতীয় দিনে সেগুলো পূরণ করা হয়। সীমিত পরিসরে ব্যানার টানিয়েই আয়োজন শেষ করা হয় মেলার।

অংশগ্রহণকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা জানান, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, খাওয়া-দাওয়া ও অন্যান্য ব্যয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোই বহন করেছে। অভিযোগ রয়েছে, মেলায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের দুই দিন নাস্তা দেওয়া হলেও তা সময়মতো সরবরাহ করা হয়নি।

মেলার উদ্বোধনী দিনে উপস্থিত কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের জন্য ছিল সাধারণ চা-নাস্তার ব্যবস্থা। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের মাঝে সনদপত্র ও ক্রেস্ট বিতরণ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব খরচ থাকলেও বরাদ্দের অর্থের সামগ্রিক ব্যবহারের বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

গত ১৩ এপ্রিল আমাদের প্রতিদিন পত্রিকার অনলাইনে  ও ১৪ এপ্রিল প্রিন্ট

ভার্সনে  সংবাদ প্রকাশের পর ১৯ এপ্রিল সকালে তড়িঘড়ি করে মেলার আয়োজন করা হয়। নির্ধারিত সময় (৮–৯ এপ্রিল) পেরিয়ে যাওয়ার পর এমন আয়োজনকে ‘দায়সারা’ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া অংশগ্রহণকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও ছিল সীমিত।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, “বরাদ্দের অর্থের বিষয়ে  জানতে চাওয়ার সুযোগ কী আপনার আছে। তবে দেশের অন্যান্য উপজেলায় যেভাবে বিজ্ঞান মেলা আয়োজন করা হয়েছে, গঙ্গাচড়াতেও সে ধরণ অনুসরণ করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অর্থ বরাদ্দে দেরি ও প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে নির্ধারিত সময়ে মেলা আয়োজন সম্ভব হয়নি। তবে তড়িঘড়ি করে আয়োজন করায় পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় শিক্ষক ও সচেতন মহলের অভিযোগ, পরিকল্পনার অভাব, সমন্বয়হীনতা ও অবহেলার কারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কর্মসূচি যথাযথ মর্যাদা পায়নি।