নিজস্ব প্রতিবেদক:
চীনাবাদাম (Groundnut) একটি লাভজনক তৈলবীজ ফসল, যা বেলে-দোআঁশ মাটিতে সবচেয়ে ভালো হয়। রবি মৌসুমে ও খরিফ-২ মৌসুমে এর চাষ করা যায়। এবার রংপুর অঞ্চলে চিনা বাদামের উৎপাদন ও বাজারমূল্য অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। অল্প খরচে লাভ বেশি হওয়ায় দিনদিন বাদাম চাষ জনপ্রিয় হচ্ছে এই অঞ্চলে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে বাদামের বাম্পার ফলনের আশা করছেন স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
জানা যায়, চরাঞ্চলে চাষ হওয়া অন্যান্য ফসলের তুলনায় বাদাম চাষে লাভ বেশি ও বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। তাই তিস্তা নদীর চরাঞ্চলজুড়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় বাদাম চাষ ব্যাপক হারে হচ্ছে। সবুজ পাতায় দোল খাচ্ছে বাদামের গাছ। অল্প খরচে লাভ বেশি হওয়ায় দিনদিন বাদাম চাষে আগ্রহী হচ্ছে এই অঞ্চলের মানুষ। তিস্তা নদীবেষ্টিত রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার চরাঞ্চলে বাদাম চাষে দিন বদলের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা।
গঙ্গাচড়ার সালাম, নুরে আলম, আবুল কালাম, আশরাফুল সহ কয়েকজন চাষি বলেন, এক বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করতে খরচ হয় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা, ভালো ফলন হলে প্রতি বিঘা জমিতে ৭ থেকে ৮ মণ পর্যন্ত বাদাম উৎপাদন হয়। বাজার মূল্যও ভালো পাওয়া যায়। তাই আমরা বাদাম চাষে আগ্রহী হয়েছি।
এদিকে কৃষি বিভাগ বলছেন, গতবারের চেয়ে এবার বাদাম চাষ বেড়েছে। কৃষি বিভাগ বাদাম চাষিদের বিনামূল্যে বীজ ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করে আসছে।
চাষাবাদ সম্পর্কে কৃষি বিভাগ তথ্য দেন, নিয়ম অনুযায়ী বাদাম চাষ করলে ফলন বেশি পাওয়া যায়। বাদামের বীজ সারিতে বপন করতে হবে। সারি থেকে সারির দূরত্ব ৩০-৪০ সেমি এবং চারা থেকে চারার দূরত্ব ১৫-২০ সেমি হতে হবে। সার ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে হেক্টরপ্রতি প্রায় ৩-৪ টন গোবর, এবং মাটির উর্বরতা অনুযায়ী ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপি সার ব্যবহার করতে হয়। এছাড়াও বোরণ সারের ঘাটতি পূরণে বোরাক্স প্রয়োগ করা যেতে পারে। খরার সময় (ফুল ও ফল আসার সময়) সেচ দিতে হবে। চারা গজানোর ২০-২৫ দিন পর আগাছা পরিষ্কার করতে হবে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে আরো জানা যায়, ফুল আসার পর গাছের গোড়ায় মাটি তুলে দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যাতে পেগ বা গর্ভদণ্ড সহজে মাটির নিচে ঢুকতে পারে। গাছের পাতা হলুদ হয়ে শুকিয়ে গেলে বা পড বা বাদাম শক্ত ও বাদামী রঙের হলে সংগ্রহের উপযুক্ত সময়। হেক্টরপ্রতি রবি মৌসুমে ২.৫০-২.৮০ টন এবং খরিফ মৌসুমে ২.০০-২.৪০ টন ফলন পাওয়া যায়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ সিরাজুল ইসলাম, বাদাম লাভ জনক চাষ। এক সময় এই অঞ্চলে তামাকের চাষ বেশি হতো, বাদাম চাষ কম হতো। এখন তামাকে লাভ না হওয়ায় বাদাম চাষে ঝুঁকছে এই অঞ্চলের কৃষকরা। বাদাম চাষীদের জন্য আমাদের দপ্তর হতে সব রকমের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে।