নিজেই কারিগর, নিজেই মালিক নিজে বিক্রেতারা হরেক রকমের বাহারি মিষ্টি

2026-04-25 18:36:41

আজহারুল ইসলাম সাথী ঘোড়াঘাট:

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার প্রধান হাট ও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি হয় হরেক রকমের বাহারি মিষ্টি। এসব মিষ্টি দেখে কার না আসে জিভে জল। বিভিন্ন মিষ্টির পরসা সাজিয়ে বসে আছে এসব দোকানি। আবার মিষ্টির দোকানে বসে খেতে দেখা গেছে চিরা পাওরুটি নোনচা মিষ্টি রস দিয়ে ভিজিয়ে খেতে।

এসব বিক্রেতারা নিজেই কারিগর, নিজে মালিক এবং নিজেই দোকানি হওয়ায় কম লাভে শহরের সুসজ্জিত দোকানের চেয়ে প্রায় অর্ধেক দামে মিষ্টি বিক্রি করে থাকেন বাহারি রকমের এ সব মিষ্টি। অর্ধেক দামে মিষ্টি পেয়ে ক্রেতারাও লুফে নেন সে সুযোগ। খেতে সুস্বাদু বলে জানান, ক্রেতারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘোড়াঘাট পৌরসভা, ওসমানপুর বাজার, রাণীগঞ্জ বাজার, ডুগডুগীর বাজার, কানাগাড়ী বাজার, বলগাড়ী বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন ছোট বড় হাট বাজারে বিক্রি হয় স্থানীয় ভাবে তৈরিকৃত রকমারি মিষ্টি।

বিক্রেতারা নিজে মিষ্টি তৈরির কারিগর। তারা নিজেরা রাতে মিষ্টি তৈরি করে সকালে হাটবাজারে নিয়ে দোকান দিয়ে বসেন বিভিন্ন হাট বাজারের বিক্রি করে থাকে। তারা নিজেরা মিষ্টি তৈরি ও নিজে মালিক হওয়ায় অল্প লাভে বিক্রি করেন এসব বাহারি রকমের মিষ্টি। যা শহরের সুসজ্জিত দোকানের প্রায় অর্ধেক মূল্য।

উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ভিতরের অস্থায়ী দোকান ঘুরে দেখা গেছে, বিক্রেতারা রসগোল্লা হাঁটি, জাম নাড়ু ২৪০ টাকা, মতিচুর লাড্ডু ২০০টাকা, সন্দেশ ২০০ টাকা, ছানার জিলাপি ২৪০টাকা এবং শুকনো জিলাপি ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন।

এই ধরণের মিষ্টি শহরের সুসজ্জিত দোকানে অনেক বেশি দামে এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি করা হয়। একই রকমের কাঁচামাল দিয়ে তৈরি মিষ্টান্নের দামে নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে মিষ্টি দোকানিরা বলেন, তাদের বাড়ি বিভিন্ন গ্রামে। গ্রাম থেকে কম দামে দুধ কিনে নিজে তৈরি করেন মিষ্টি।

তারা নিজেরাই বহন করে নিয়ে আসেন হাটে এবং নিজেই অস্থায়ী দোকান দিয়ে বসেন বাজারের মিষ্টি পট্টি দোকানে কোন রাস্তার ধারে। সপ্তাহের প্রতি দিন বাজারে আসেন মিষ্টি বিক্রি করতে। দোকানিরা বলেন, শহরের সুসজ্জিত দোকানের মতো তাদের দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ও কর্মচারীদের বেতন দিতে হয়না। তাই তারা মিষ্টি বিক্রি করতে পারেন অনেক কম দামে। দাম কম হওয়ায় তাদের দোকানের বিক্রিও বেশ ভালো। এই সীমিত লাভ দিয়েই চলে তাদের সংসার।