পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি:
আমরা গরীব। দিনমজুর ও ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। তাই আমাদের চাঁদায় টাকা কেনা এই সামাজিক কবরস্থানটি এখন ‘গরীবের কবরস্থান’ হয়ে গেছে। নিচু জমিতে দাফন করতে হচ্ছে মৃত মানুষের মরদেহ। গরীবের কবরস্থান বলেই এখানে মিলছে না কোন সরকারি সহায়তা। অত্যান্ত আবেগরে সহিত কথাগুলো বলছিলেন পীরগাছা উপজেলার অনন্তরাম (নোয়াখালী পাড়া) গ্রামের বাসিন্দা নজির হোসেন। তার মতো এই গ্রামে ২ শতাধিক পরিবারের বসবাস। এদের সবাই দিনমজুর ও ভ্যান চালক।
জানা গেছে, রংপুর জেলাধীন পীরগাছা উপজেলার ৭নং পীরগাছা সদর ইউনিয়নের অনন্তরাম (নোয়াখালী পাড়া) গ্রামে ছিল না কোন সামাজিক কবরস্থান। পাড়ার কেউ মারা গেলে এক কিলোমিটার দুরে সরকারি কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন কার্য সম্পন্ন করতে হতো। সম্প্রতি খেটে খাওয়া এসব দিনমজুর ও ভ্যান চালক নিজেরা চাঁদা দিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির নিকট থেকে ৭০ হাজার টাকা শতক হিসেবে ৬ শতাংশ জমি কবরস্থানের জন্য ক্রয় করেন। জমিটি অনন্তরাম (নোয়াখালী পাড়া) সামাজিক কবর স্থানের নামে কবলা রেজিষ্ট্রি করা হলেও এখনো জমি ক্রয়ের কিছু টাকা বাকি রয়ে গেছে। ওই কবরস্থানে কয়েকটি দাফন কার্য সম্পন্ন করা হলেও জমিটি একেবারে নিচু হওয়ার কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে তলিয়ে যায়। সেখানে দাফন কার্য সম্পন্ন করা দুষ্কর হয়ে পড়ে। পাড়ার কেউ মারা গেলে নানা সমস্যায় পড়তে হয় গ্রামবাসীকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরও সরকারি সহায়তায় এ উপজেলায় অনেক কবরস্থান, মসজিদ, ঈদগাঁ মাঠ সংস্কার করা হয়েছে। অনেক অপ্রয়োজনীয় সড়কের কাজ করা হয়েছে। কিন্তু এই কবরস্থানের কোন বরাদ্দ মেলেনি। স্থানীয়রা ইউপি চেয়ারম্যানসহ কয়েক স্থানে ধর্ণা দিয়ে কোন সাহায্য পায়নি গ্রামবাসী।
ওই গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমরা খাই আর না খাই জীবন চলে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের এলাকার কেউ মারা গেলে দাফন নিয়ে খুব চিন্তায় পড়ে যাই। কবরস্থানটি একেবারেই নিচু। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়, তখন দাফন করা যায় না। নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। আমরা চাই সরকারি সহায়তায় এই ‘গরীবের কবরস্থান’টি উন্নয়ন করা হোক।
কবরস্থানের তত্ত্বাবধায়ক মো: রুস্তোম আলী বলেন, পরকালের চিন্তা করেই অনেক কষ্ট করে জমিটি কেনা হয়েছে। কিন্তু কোন সরকারি সহায়তা পাওয়া যায়নি। আমরা গরীব বলেই এখানে সরকারি সহায়তা মিলছে না। আমরা সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।