চিলমারীতে ঘনঘন লোডশেডিং, পড়াশোনায় ছন্দপতন

2026-04-26 22:58:37

চিলমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি:

তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাটে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার জনজীবন ক্রমেই অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার্থীদের ওপর। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, বাড়ছে অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ।

স্থানীয়রা জানান, লোডশেডিংয়ের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। কখন বিদ্যুৎ থাকবে, আর কখন থাকবে না-এই অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারছে না। বিশেষ করে রাতে ঘনঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় প্রস্তুতিতে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটছে।

এসএসসি পরীক্ষার্থী জীবন বলেন,‘দিন-রাত কোনো সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না। ঠিকভাবে পড়াশোনা করতে পারছি না। এতে করে আত্মবিশ্বাসও কমে যাচ্ছে।’

অন্য পরীক্ষার্থী তানিয়া আক্তার বলেন,‘রাতে পড়তে বসলে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। গরমের মধ্যে মনোযোগ ধরে রাখা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। এতে করে পড়ার প্রতি আগ্রহও কমে যাচ্ছে।’

অভিভাবকদের অভিযোগ, পরীক্ষার আগে শেষ মুহূর্তের পুনরাবৃত্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিদ্যুৎ সংকটে তা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক শিক্ষার্থী গরম ও অস্বস্তিকর পরিবেশে পড়তে বাধ্য হচ্ছে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তুলছে।

অভিভাবক আব্দুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যুতের অভাবে ছেলেমেয়েরা ঠিকমতো ঘুমাতে পারছে না, পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে। অন্তত পরীক্ষার সময়টুকুতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা দরকার।’

এ বিষয়ে চিলমারী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. ফখর উদ্দিন জানান, ‘বিদ্যুৎ সরবরাহ আগের তুলনায় কমে যাওয়ায় লোডশেডিং বেড়েছে। বিশেষ করে পিক আওয়ার বা রাতে ঘাটতি বেশি থাকে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কর্তৃপক্ষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’

স্থানীয়দের দাবি, পরীক্ষার সময় বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক, যাতে শিক্ষার্থীরা স্বস্তিতে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারে।