মোঃ বুলবুল ইসলাম, খানসামা (দিনাজপুর):
"দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের সরহদ্দ এলাকার পেষ্টিপাড়া জামে মসজিদের জমি নিয়ে বিরোধ এখন চরম আকার ধারণ করেছে। মসজিদের বাউন্ডারি ওয়াল ভাঙা কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। জমির মালিকানা নিয়ে কফিল উদ্দিন ও মাসুদুজ্জামান সরকারের মধ্যে দ্বন্দ্ব নতুন করে সামনে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমির মালিকানা নিয়ে উভয় পক্ষ ভিন্ন ভিন্ন দাবি করছে। এক পক্ষ ১৯৯৭ সালের রেজিস্ট্রি দলিল দেখিয়ে ব্যক্তিগত মালিকানা দাবি করছেন; অপর পক্ষ পরবর্তী ক্রয়-বিক্রয় ও দানের সূত্রে জমিটিকে মসজিদের সম্পত্তি হিসেবে দাবি করছে।
কফিল উদ্দিন জানান, তিনি ১৯৯৭ সালে খয়রাত আলীর কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করেন এবং দলিলসূত্রে তিনিই বৈধ মালিক। দীর্ঘদিন ঢাকায় বসবাস করায় দলিলটি তার কাছে ছিল না। ২০২৪ সালে বাড়িতে ফিরে দলিল হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি তিনি মসজিদ কমিটি ও স্থানীয়দের অবহিত করেন।কফিল উদ্দিন বলেন, “আমার কাগজপত্র বৈধ হওয়ায় আমি জমিতে দখল নিয়েছি। মসজিদের জমির দাগ নম্বর ৭২৭৪ এবং আমার জমির দাগ ৭২৭৬—দুটি সম্পূর্ণ আলাদা। যদি তারা বৈধ প্রমাণ দেখাতে পারে, তাহলে আমি এই জমি থেকে সরে দাঁড়াতে প্রস্তুত।”
অন্যদিকে, মাসুদুজ্জামান সরকার দাবি করেন, জমিটির মূল মালিক ছিলেন খয়রাত আলী ও খলিল হোসেন। তারা জমিটি নিলুফা ইয়াসমিন ও আনোয়ার হোসেনের কাছে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে তিনি ২০১০ সালে তাদের কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করেন। এরপর জমিটি ভরাট করে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে মসজিদ কর্তৃপক্ষ জমিটি ব্যবহার করে আসছে। পরে তিনি নিজ উদ্যোগে জমিটি মসজিদের নামে দান করেন। তার কাছেও বৈধ কাগজপত্র রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এলাকাবাসী খাদিমুল ইসলাম বলেন, “আইনগতভাবে যার কাগজপত্র সঠিক প্রমাণিত হবে, জমির মালিকানা তারই হওয়া উচিত। আমরা চাই বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান হোক।”
মসজিদের ক্যাশিয়ার জানান, প্রায় সাত থেকে নয় শতক মসজিদের জমি। তার ভাষ্যমতে, ১৯৯৭ সালে খয়রাত উদ্দিন কফিল উদ্দিনের কাছে জমিটি রেজিস্ট্রি করেন। পরে ২০০৩ সালে জমিটি আনোয়ার প্রফেসরের কাছে এবং ২০১১ অথবা ২০১২ সালে মাসুদুজ্জামান সরকারের কাছে বিক্রি হয়। মাসুদুজ্জামান সরকার জমিটি বাউন্ডারি ওয়াল দিয়ে ঘিরে ২০২৪ সালে মসজিদের নামে দান করেন। বর্তমানে কফিল উদ্দিন ১৯৯৭ সালের দলিল দেখিয়ে জমিতে দখল নিয়েছেন। হাল চাষ ও যাতায়াতের সুবিধার জন্য তিনি মসজিদের বাউন্ডারি ওয়ালের একটি অংশ ভেঙে দিয়েছেন।
মসজিদের ইমাম বলেন, “আমার জানামতে জমিটি কফিল উদ্দিনের বাবার ছিল। পরে আনোয়ার প্রফেসর জমিটি ক্রয় করেন এবং পরবর্তীতে তিনি তা বিক্রি করেন মাসুদুজ্জামান সরকারের কাছে। মাসুদুজ্জামান সরকার জমিটি ভরাট করে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করে মসজিদের আওতাভুক্ত করেন। তবে বর্তমানে কফিল উদ্দিন পুরোনো দলিল দেখিয়ে মালিকানা দাবি করছেন। মসজিদ কমিটি বলছে, তারা মাসুদুজ্জামান সরকারের কাছ থেকেই জমিটি গ্রহণ করেছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন, “এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মসজিদের দেয়াল ভাঙার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। যদি ভাঙচুরের ঘটনা সত্য হয়, তাহলে তা আইনশৃঙ্খলার অবনতি হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ক্ষেত্রে মসজিদ কমিটিকে থানায় মামলা করতে হবে। জমি সংক্রান্ত বিরোধ থাকলে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ না করা হলে পরিস্থিতি যেকোনো সময় আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। তারা শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেছেন।