গঙ্গাচড়ায় প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে অবহেলা: সংবাদ প্রকাশের পর শোকজ নোটিশ

2026-04-28 22:11:10

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কে.এন.বি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জলধর চন্দ্র রায়ের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে শিক্ষা প্রশাসন। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।

গত ৫ এপ্রিল আমাদের প্রতিদিন

পত্রিকার প্রিন্ট ভার্সনে “স্কুল খুলেই প্রধান শিক্ষক যান বাড়ি, শিক্ষা ব্যবস্থা ব্যাহত” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, প্রধান শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না এবং স্কুল চলাকালীন সময়েই বাড়িতে চলে যান। এতে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা ক্লাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৪ এপ্রিল সরেজমিনে দেখা যায়—বিদ্যালয় খোলার পরপরই প্রধান শিক্ষক প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করে বাড়িতে চলে যান এবং পরে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে পুনরায় ফিরে আসেন। স্থানীয়দের দাবি, এটি তার প্রায় প্রতিদিনের অভ্যাস। ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যসূচি পিছিয়ে পড়ছে এবং অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এছাড়াও একই দিনে উপজেলার উত্তর গণেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি এবং উপস্থিতি খাতায় নাম লিপিবদ্ধ না থাকার ঘটনাও উঠে আসে, যা শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক চিত্র নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

সংবাদ প্রকাশের প্রেক্ষিতে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে গত ২৪ এপ্রিল একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়, যা প্রধান শিক্ষক জলধর চন্দ্র রায় ওই দিনই গ্রহণ করেন। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন, সময়মতো উপস্থিতি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ কেন করা হবে না—তার লিখিত জবাব ৪ কার্যদিবসের মধ্যে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ নাসির উদ্দিন স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার কথা উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা জেসমিন সাঈদ বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরে যেতে পারে।