ডোমার(নীলফামারী)প্রতিনিধি:
ডোমারে ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে ভোক্তাদের মাঝে। তবে এর উল্টো চিত্র এখন দেখা যাচ্ছে পেট্রল পাম্পগুলোতে মজুত আছে পর্যাপ্ত, কিন্তু নেই আগের মতো ক্রেতার ভিড়। ফলে অনেকটা অলস সময় পার করছেন পাম্প কর্মীরা।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকাল ৩টার দিকে পাম্পগুলোতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েক দিন আগেও যেখানে শত শত মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা যেত, সেখানে এখন পুরো পরিবেশেই ফাঁকা। রতেের আধারেই উধাও হয়ে গেছে পাম্পে দাড়িয়ে থাকা সেই সব মোটর সাইকেল।
অনিয়ন্ত্রিত বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে নির্দিষ্ট গ্রাহকদের মাঝে নির্ধারিত পরিমাণে তেল সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। তবে ফুয়েল কার্ড না থাকায় বেশিরভাগ মোটরসাইকেল চালককে ফিরে যেতে হচ্ছে তেল ছাড়াই।
মোটরসাইকেল চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় তেল পাওয়া যেত না। কিন্তু এখন আর সেই ভোগান্তি নেই। ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থার কারণে দ্রুত তেল পাওয়া যাচ্ছে। তাদের দাবী ফুয়েল কার্ড ছাড়া যাতে কেউ তেল না পায়।
পৌর শহরের ডোমার ফিলিং স্টেশনের মালিক ফরহাদ হোসেন বলেন, তেল বিক্রি আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। স্টোরেজ ট্যাংকে তেল জমে থাকছে, আবার নতুন সরবরাহও আসছে। বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার লিটার পেট্রল আসার অপেক্ষায় রয়েছে। যদি বিদ্যমান তেল শেষ না হয়, তাহলে লড়িতে তেল রেখে দিতে হবে যা আমাদের জন্য চাপ তৈরি করছে।’এভাবে চলতে থাকলে তেল আনাই বন্ধ করে দিতে হবে। তিনি আরো বলেন,যেখানে দুই তিন ঘন্টায় তিন থেকে চার হাজার লিটার তেল বিক্রি হতো। এখন ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে তেল দেওয়ার পর থেকে সারা দিনে ৫ থেকে ৭ শত লিটার তেল বিক্রি হচ্ছে।
পৌরশহরের আমিনা রহমান ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আতাউর রহমান বলেন, ‘আগে প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার লিটার পেট্রল বিক্রি হতো। এখন সেই পরিমাণ তেল বিক্রি করতে ৪ থেকে ৫ দিন সময় লাগছে। নতুন করে সরবরাহও আসছে, ফলে কোনো সংকট নেই।’সাময়িক বিক্রি কমে গেলেও এক সময় সব ঠিক হয়ে যাবে বলে তিনি জানিয়েছেন। মোটর সাইকেল চালক রাফিন ও সফিকুল বলেন,আমাদের সকল কাগজ না থাকায় ফুয়েল কার্ড পাইনি আমরা। আমরা যদি তেল না পাই তাহলেতো আমাদের ব্যবসা বানিজ্য বন্ধ হয়ে যাবে। ফুয়েল কার্ড নেওয়ার শর্ত আরো শিথিল করার দাবী জানান তারা। মামুন নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, আজ যে মোটরসাইকেল কিনবে তার কি হবে। প্রশাসনের এসব ভেবে দেখা উচিত।
ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, ‘ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থার ফলে জ্বালানি সরবরাহে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। বর্তমানে তেল নিতে কোনো ঝামেলা নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।