কুড়িগ্রামে খাল খনন কর্মসূচি উদ্ধোধন করলেন ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু

2026-05-13 19:49:27
news-picture

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের আতাজী পলাশবাড়ি এলাকায় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। আজ রোববার(১০ মে) দুপুরে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে তিনি এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। উদ্বোধন শেষে তিনি খালের পাড়ে একটি গাছ লাগান।

সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে নদী, নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী কুড়িগ্রামে এই খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করেন।

কুড়িগ্রাম জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় আরাজী পলাশবাড়ী মৌজার দাশেরহাট ছড়া থেকে এসিল্যান্ড–সংযোগ খাল পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হবে। খাল পুনঃখনন ও অবকাঠামো উন্নয়ন এই প্রকল্পের জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। এরমধ্যে শ্রমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫ লাখ ৬২ হাজার ৪০ টাকা। ১১৯ জন শ্রমিক ৪০ দিন কাজ করবেন। পাশাপাশি প্রায় ২৫ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে তিনটি কালভার্ট নির্মাণ, ভেকু দিয়ে মাটি কাটা, লেভেলিং, ড্রেসিং ও বৃক্ষরোপণের কাজ করা হবে। চলতি অর্থবছরের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন  জানান, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলাধার সংরক্ষণের জন্য প্রথম ধাপে জেলার ভূরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট, উলিপুর ও রৌমারী উপজেলার ৫৯ দশমিক ৯৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হবে।

স্থানীয় কৃষক আবদুল জব্বার বলেন, 'একসময় দাশেরহাট ছড়ার পানি এই ক্যানেল দিয়ে ধরলা নদীতে গিয়ে পড়ত। এখন খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নামতে পারে না। এতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে আশপাশের ফসলের ক্ষতি হয়। খাল পুনঃখনন হলে কৃষকের অনেক উপকার হবে।'

উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির আহবায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা , সদস্য সচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, যুগ্ন আহবায়ক হাসিবুর রহমান ওরফে হাসিব, শফিকুল ইসলাম বেবু এবং জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) বিএম কুদরত এ খুদা, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ টিএম বেনজীর রহমান এবং প্রকল্প কমিটির সভাপতি ও হলোখানা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে আজ সকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু লালমনিরহাট জেলার নিজ বাসভবন থেকে সড়কপথে কুড়িগ্রাম পৌঁছান। পরে  জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন, এরপর তিনি কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্য স্থান নালিয়ারদোলা পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে সড়কপথে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের আরাজী পলাশবাড়ী এলাকায় খাল খনন অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে তিনি এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

এর আগে আজ সকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু লালমনিরহাট জেলার নিজ বাসভবন থেকে সড়কপথে কুড়িগ্রাম পৌঁছান। পরে  জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন, এরপর তিনি কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেন।   সেখান থেকে সড়কপথে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের আরাজী পলাশবাড়ী এলাকায় খাল খনন অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে তিনি এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

খাল খনন কর্মসূচি উদ্ধোধন শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, 'শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তার শাসনামলে খাল খনন কর্মসূচির শুরু করেছিলেন। ওই খালের পানিতে কৃষকরা কৃষি চাষাবাদ করতেন, ওই খালে মাছ চাষ হতো। ফলে মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন খাল খনন ও পরিচর্যা কর্মসূচি বন্ধ ছিল। আমাদের নির্বাচনী কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খাল পুনঃখনন করার অঙ্গিকার করেছিলেন। সেই অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে আজ কুড়িগ্রামে খাল খনন কর্মসূচির উদ্ধোধন করছি।

তিনি আরও বলেন, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশের ৬৩টি জেলায় আগামী পাঁচ বছরে ৭ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। চলতি বছরে ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার খাল খনন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা আশাকরি এই খাল খনন কর্মসূচি মানুষের বহুমুখী উপকারে আসবে।