গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার পাকুড়িয়া শরিফ আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আঞ্জুমানারা বেগমের বিরুদ্ধে প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থীদের খাতা দেখে সহায়তা ও উত্তর বলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, পরীক্ষা চলাকালে তিনি কখনো শিক্ষার্থীদের খাতা দেখে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, আবার কখনো সরাসরি উত্তর বলে দিয়েছেন।
রবিবার (১০ মে) বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির গণিত পরীক্ষা চলাকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক কয়েকজন শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়ে তাদের খাতা দেখছেন এবং দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে ঘটনাটি বিদ্যালয়জুড়ে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরা একটি ছবি ধারণ করেন। ছবিতে দেখা যায়, কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ঘিরে প্রধান শিক্ষক তাদের খাতা দেখিয়ে দিচ্ছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নষ্ট করছে এবং শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা যাচাইকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এর আগেও প্রধান শিক্ষক আঞ্জুমানারা বেগমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি কিছুদিন সাময়িক বরখাস্ত ছিলেন।
অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়ম শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আঞ্জুমানারা বেগম বলেন,
“আমি কাউকে লিখে দেইনি। শিক্ষার্থীদের খাতা দেখছিলাম মাত্র।”
সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার নাসরিন আক্তার বলেন,
“বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উপজেলা শিক্ষা অফিসার শায়লা জেসমিন সাঈদ বলেন,
“পরীক্ষা চলাকালে এ ধরনের কোনো অনিয়ম গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগ তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”