২লাখ ৮২ হাজার গরু প্রস্তুত! ক্রেতা সংকটে এখনও জমে উঠেনি নীলফামারীর পশুর হাট

2026-05-17 17:45:23
news-picture

নীলফামারী প্রতিনিধি:

নীলফামারীর পশুর হাটগুলোতে কোরবানির পশুর আমদানি বাড়লেও এখনো বেচাকেনা পুরোপুরি জমে ওঠেনি। জেলার বড় হাটগুলোতে পর্যাপ্ত পশু থাকলেও ক্রেতা উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম। এতে হাটগুলোতে দেখা দিচ্ছে স্থবিরতা।

 সরেজমিনে বসুনিয়াহাটে দেখা যায়, দেশি গরু, মহিষ ও ছাগলের সরবরাহ থাকলেও বিক্রি আশানুরূপ নয়। বিক্রেতারা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও ক্রেতা পাচ্ছেন না।

বিক্রেতা ও ক্রেতারা জানান, দালালদের দৌরাত্ম্য, অতিরিক্ত হাসিল আদায়, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং নানা হয়রানির কারণে অনেকেই হাটবিমুখ হচ্ছেন। ফলে ক্রেতারা এখন খামার থেকে সরাসরি পশু কেনার দিকে ঝুঁকছেন।

বিক্রেতা আশেক আলী বলেন, সারাদিন দাঁড়িয়ে থাকলেও অনেকেই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে চলে যাচ্ছে। আবার ক্রেতা নূর ইসলাম অভিযোগ করেন, দালালদের কারণে স্বাভাবিক দরদাম করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

হাট ইজারাদার জাহেরুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে পশুর সরবরাহ ভালো হলেও বিক্রি কম। গত একাধিক হাটে হাজার হাজার পশু উঠলেও বিক্রি হয়েছে তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

এদিকে হাটের অবকাঠামোগত দুর্বলতা, বৃষ্টিতে কাদা ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় মেডিকেল টিমের ঘাটতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির দাবি উঠেছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে নীলফামারীতে ৪১টি পশুর হাট বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩১টি স্থায়ী ও ১০টি অস্থায়ী হাট রয়েছে। অনলাইনে পশু কেনাবেচার জন্যও কয়েকটি প্ল্যাটফর্ম চালু রয়েছে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানায়, এ বছর জেলায় প্রায় ২ লাখ ৮২ হাজার কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে এবং ২০টি মেডিকেল টিম মাঠে কাজ করছে।

পুলিশ প্রশাসন বলছে, হাটগুলোতে অস্থায়ী ক্যাম্প, সাদা পোশাকে নজরদারি ও জাল নোট শনাক্তের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দালাল নিয়ন্ত্রণ, হাসিল নির্ধারিত রাখা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার না হলে পশুর হাটের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও কমে যেতে পারে।