পরীক্ষায় দায়িত্বে অবহেলা: প্রধান শিক্ষককে শোকজ, আগেই বিদ্যালয় পরিদর্শনে শিক্ষা কর্মকর্তারা

2026-05-17 18:06:16
news-picture

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কুতুব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলাকালে দায়িত্বে অবহেলার ঘটনায় এবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে উপজেলা শিক্ষা অফিস।

এর আগে গত ১০ মে দৈনিক  আমাদের প্রতিদিন  পত্রিকায়

“পরীক্ষার দায়িত্বে অবহেলা: কক্ষে ডিউটি ফেলে বেঞ্চে ঘুমাচ্ছিলেন শিক্ষক, ছবি তুলতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

জানা যায়, গত ৯ মে বিদ্যালয়ের প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা চলাকালে সহকারী শিক্ষক বিপুল চন্দ্র রায়কে দায়িত্ব পালন না করে শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চের ওপর ঘুমিয়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দি করলে অপর সহকারী শিক্ষক ওমর আল জাবির (রফিক) ছবি ডিলিট করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এছাড়া পরীক্ষার সময় কয়েকজন শিক্ষক অফিসকক্ষে বসে গল্প করছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার পর গত ১২ মে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা জেসমিন সাঈদ ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাসির উদ্দীন। পরিদর্শনের পর বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় রোববার (১৭ মে) উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা জেসমিন সাঈদ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলামকে শোকজ নোটিশ প্রদান করেন।

শোকজে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যালয়ে একাধিক শিক্ষক উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও অসুস্থ সহকারী শিক্ষক বিপুল চন্দ্র রায়কে কেন পরীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে। পাশাপাশি প্রধান শিক্ষক উপস্থিত থাকা অবস্থায় সহকারী শিক্ষক ওমর আল জাবির (রফিক) কেন সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

এছাড়াও পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ থাকা সত্ত্বেও সিট প্ল্যান ছাড়া একই কক্ষে একাধিক শ্রেণির পরীক্ষা নেওয়ার কারণ সম্পর্কেও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা জেসমিন সাঈদ বলেন, “পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে দায়িত্বে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হয়েছে। তদন্ত ও লিখিত ব্যাখ্যার ভিত্তিতে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ঘটনাটি এলাকায় এখনও আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে। অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দায়িত্বশীল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।