শ্রমিক সংকট, টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্নের ফসল

2026-05-20 10:13:44
news-picture

হাবিবুল হাসান হাবিব, ডিমলা, নীলফামারী:

টানা বৃষ্টি, উজানের ঢল এবং তীব্র শ্রমিক সংকটে নীলফামারীর ডিমলার বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধান কাটাকে কেন্দ্র করে দেখা দিয়েছে চরম কৃষি বিপর্যয়। পাকা ধান ঘরে তোলার আগেই বিস্তীর্ণ মাঠ এখন হাঁটু থেকে কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। অনেকেই বলছেন, বছরের একমাত্র সম্বল এই ফসল হারালে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হবে।

জেলার বিভিন্ন উপজেলার নিচু এলাকা, বিশেষ করে নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল ও বিলাঞ্চলে পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় শত শত একর জমির পাকা ধান পানির নিচে ডুবে গেছে। কোথাও কোথাও জমিতে কাটা ধান ভিজে নষ্ট হচ্ছে, আবার অনেক জমিতে ধান কাটার আগেই পানিতে পড়ে গেছে।

কৃষকদের অভিযোগ, সময়মতো শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। যে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে, তারা অতিরিক্ত মজুরি দাবি করছেন। আগে যেখানে প্রতি বিঘা ধান কাটতে শ্রমিক খরচ হতো ২০০০ থেকে ৩০০০ টাকা, সেখানে এখন গুনতে হচ্ছে জমি ভেদে ৫০০০ থেকে ৮০০০ টাকা পর্যন্ত। তবুও পর্যাপ্ত শ্রমিক মিলছে না। ফলে পাকা ধান মাঠেই পড়ে থাকছে।

কৃষকরা জানান, কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে জমিতে পানি জমতে শুরু করে। প্রথমে অনেকেই ভেবেছিলেন পানি দ্রুত নেমে যাবে। কিন্তু বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এতে ধানের শীষ পানির নিচে ডুবে গিয়ে পচে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

একাধিক কৃষক বলেন, ধারদেনা করে সার, বীজ ও কীটনাশক কিনে চাষাবাদ করেছেন তারা। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও শ্রমিক সংকটের কারণে এখন সেই ফসল ঘরে তুলতে না পারলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। অনেকে ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন। ফসল নষ্ট হলে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করাও অসম্ভব হয়ে পড়বে।

স্থানীয় কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আবহাওয়ার এমন বৈরী পরিস্থিতি এখন প্রায় নিয়মিত হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলে কৃষি শ্রমিক কমে যাওয়ায় ধান কাটার মৌসুমে সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে। অনেক শ্রমিক অন্য পেশায় চলে যাওয়ায় কৃষকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, কৃষকদের দ্রুত ধান কাটতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কম্বাইন হারভেস্টারসহ কৃষিযন্ত্র ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে কৃষকদের দাবি, শুধু পরামর্শ নয়, জরুরি ভিত্তিতে সরকারি সহায়তা ও কৃষি যন্ত্রপাতি সহজলভ্য করা প্রয়োজন।

এদিকে মাঠের পর মাঠ পানিতে ডুবে থাকতে দেখে কৃষকদের চোখে-মুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট। অনেকেই আকাশের দিকে তাকিয়ে শুধু বৃষ্টি থামার অপেক্ষা করছেন। কারণ এই ফসলই ছিল তাদের বছরের শেষ আশা।