হিলি প্রতিনিধি:
নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে দিনাজপুরের বিরলে বর্জ্যপাতে নিহতের নিখোঁজের ২০ দিন পর ভারতে উদ্ধার হওয়া ইসমাইল হোসেনের মরদেহ ফেরত দিয়েছে বিএসএফ। দুই দেশের আইনীপ্রক্রিয়া শেষে ভারত হিলির ইমিগ্রেশন পুলিশ বাংলাদেশ হিলি ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। দীর্ঘ অপেক্ষার পরে বাবার মরদেহ পেলেও স্তব্ধ ছেলে ও স্বজনরা।
হিলি সীমান্তে গিয়ে দেখা যায়, বাবার মরদেহ এক নজর দেখতে ভারত সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার দিকে তাকিয়ে আছেন ছেলে হায়দার আলী। কখন আসবে বাবার মরদেহের কফিন। দেখবেন এক নজর বাবার মুখ। সেই অপেক্ষার অবসান গঠলো দীর্ঘ ২০ দিন পর।
কথা হয় নিহত ইসমাইলের ছেলে হায়দার আলীর সাথে, তিনি জানান, গত পহেলা মে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ধর্মপুর পূর্ণভবা আত্রাই নদীতে মাছ ধরতে যান তার বাবা ইসমাইল হোসেন। এক পর্যায়ে বৃষ্টি শুরু হয় সেই সাথে বর্জ্যপাত হতে থাকে। সেই সময় বর্জ্যপাতে তার বাবা ঘটস্থালে মারা যান। পরে মরদেহটি নদীর পানিতে ডুবে যায়। ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস এবং ডুবুরি দল কয়েকদিন ধরে উদ্ধার অভিযান চালালেও তার কোনো সন্ধান পায়নি। প্রাথমিক অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করতে ব্যার্থ হলে ওইদিনেই বিরল থানাতে সাধারণ ডায়েরী করেন নিখোঁজের পরিবার।
পরে ভারত অংশের নদীতে ভাসতে দেখে ভারতীয় পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এরপর মে মাসের ৪ তারিখে ভারতীয় একটি টেলিভিশনে সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারেন যে, ভারতে দক্ষিন দিনাজপুর গঙ্গারামপুর থানা পুলিশ একটি মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেছে। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং দুই দেশের সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর সমন্বিত যোগাযোগের মাধ্যমে মরদেহটি নিখোঁজ ইসমাইলের বলে শনাক্ত করে তার পরিবার। দীর্ঘ ২০ দিন পর হলেও ইসমাইলের মরদেহ ফেরত পাওয়ায় পরিবারটির অপেক্ষার অবসান ঘটেছে, তবে ইসমাইলের এমন মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। দীর্ঘ অপেক্ষার পরে বাবার মরদেহ পেলেও স্তব্ধ ছেলে ও স্বজনরা।
এদিকে হিলি ইমিগ্রেশসেনর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু তালেব জানান, মরদেহ পাওয়ার জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের পরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার (২০ মে) দুপুরে নিহতের ছেলে হায়দার আলীর নিকট মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।