কাঁচা মরিচের ‘ঝালে’খোরশেদের মুখে হাসি

2026-05-21 15:50:01
news-picture

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

লালমনিরহাটের কাকিনার কৃষক খোরশেদ আলম। এ বছর তামাক চাষ করে লোকসান গুনতে হয়েছে তাকে। সেই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে কাকিনা মহিমারঞ্জন স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের পিছনে লিজ নেয়া ৩৩ শতাংশ জমিতে বিজলি প্লাস, নাগা ফায়ার ও স্থানীয় বিত্রি জাতের মরিচ চাষে লাভের মুখ দেখছেন তিনি। অন্যান্য ফসলের চেয়ে কম খরচে বেশি লাভ এবং অনুকূল পরিবেশের কারণে মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে।

স্থানীয় বাজার চাহিদা মিটিয়ে খোরশেদের উৎপাদিত মরিচ পৌঁছে যাচ্ছে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে। ফলে তার মরিচ চাষ দেখে কৃষকের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। এখন গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে কাঁচা, আধাপাকা ও টকটকে লাল রঙের পাকা মরিচ। খোরশেদের পরিবার এখন মরিচ উত্তোলন ও শুকানোয় ব্যস্ত সময় পার করছে।

বাজারে এবার মরিচের দাম গেল বছরের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়েছে। এতে কপাল খুলেছে মরিচ চাষি খোরশেদের। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে এবার তাঁরা ঝাল মরিচে লাল হয়ে উঠবেন।

মরিচ চাষি খোরশেদ আলম জানায়, তামাক চাষ করে এবার কপাল পুড়েছে, তাই মরিচ চাষ করে ক্ষতি পুষিয়ে উঠছি। লিজ নেয়া ৩৩ শতাংশ জমিতে তিন জাতের ৩৫ শ মরিচ গাছ রোপন করেছিলাম। গাছ লাগানোর ৪০ দিন পর গাছে মরিচ ধরছে। প্রতিদিন ক্ষেত থেকে ৪৫ কেজি মরিচ তুলছি।

তিনি আরও বলেন, দুই মাস ধরে বাজারে মরিচ বিক্রি করছি। বিভিন্ন স্থানের পাইকার এসে মরিচ তুলে নিয়ে যাচ্ছে। ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে দৈনিক আয় হচ্ছে ৩ হাজার থেকে ৩৬শ টাকা। লাভজনক ও ব্যয় কম হওয়ায় এই উদ্যোগ নিয়েছি।

মরিচ শুকিয়ে বাজারজাত করলে বাড়তি দাম পাওয়া যায়। তাই শুকনো মাটির ওপর পাটি বিছিয়ে শুকোতে দেওয়া হচ্ছে লাল মরিচ।

স্থানীয়রা বলেন, অতি লাভের আশায় আমরা প্রতিবছর তামাক চাষ করি। কিন্তু এবছর লাভের আশায় গুড়েবালি! তামাক চাষে উৎপাদন খরচ উঠছে না। খোরশেদের মরিচ ক্ষেত দেখে আমরাও উদ্বুদ্ধ হয়েছি আগামীতে মরিচ চাষ করব। মরিচ চাষে খরচ কম, ফলন বেশি বাজার দামও ভালো পাওয়া যায়।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, মরিচের পোকা মাড়ক দমন ও রোগ বালাই প্রতিরোধে উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছি। মরিচ চাষী খোরশেদকে দেখে অনেক কৃষক উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় বলেন, এ বছর উপজেলার ৮ ইউনিয়নে ৭০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। আবাদ হয়েছে ৬০ হেক্টর জমিতে। এটি যেহুতু একটা উচ্চ মূল্যের ফসল তাই এটি কিভাবে মালচিং পদ্ধতিতে করা যায় সেজন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের আগ্রহের কারণে ফলন ভালো হয়েছে। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় কৃষকরা দিন দিন মরিচ চাষের দিকে ঝুঁকছেন।