ডিমলায় কুরবানীর পশু জবাই ও চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

2026-05-24 18:42:27
news-picture

হাবিবুল হাসান হাবিব, ডিমলা (নীলফামারী):

নীলফামারীর ডিমলায় পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সঠিক পদ্ধতিতে কুরবানীর পশু জবাই ও পশুর চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ডিমলার আয়োজনে এ কর্মশালায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়ে কুরবানির পশু জবাই, মাংস সংরক্ষণ ও চামড়া রক্ষার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা গ্রহণ করেন।

উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরানুজ্জামান , মো. নুরেল হক,ডেপুটি ম্যানেজার,বিসিক জেলা কার্যালয়,নীলফামারী, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার সাইদুর রহমান, উপজেলা পিআইও অফিসার আশরাফুল ইসলাম, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার বোরহান উদ্দিন,  স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ইমাম, শিক্ষক, কসাই, ব্যবসায়ী,সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরানুজ্জামান। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রতি বছর কুরবানির মৌসুমে সঠিক সংরক্ষণের অভাবে বিপুল পরিমাণ পশুর চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। এতে যেমন আর্থিক ক্ষতি হয়, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের চামড়া শিল্পও।

বক্তারা আরও বলেন, কুরবানির পশুর চামড়া দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। অথচ সামান্য অসচেতনতা, যথাসময়ে লবণ ব্যবহার না করা, অপরিষ্কার স্থানে ফেলে রাখা এবং সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করার কারণে চামড়ার গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ন্যায্য দাম থেকেও বঞ্চিত হন সাধারণ মানুষ। তাই তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মো. নুরেল হক,ডেপুটি ম্যানেজার,বিসিক জেলা কার্যালয়,নীলফামারী প্রজেক্টর এর মাধ্যমে কুরবানির পশু জবাইয়ের সঠিক পদ্ধতি প্রদর্শন করেন। সেখানে দেখানো হয় কীভাবে পশুকে কষ্ট না দিয়ে শরীয়তসম্মত উপায়ে জবাই করতে হয়, কীভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশে মাংস প্রক্রিয়াজাত করতে হয় এবং চামড়া ছাড়ানোর সময় কোন বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হয়। এছাড়া পশু জবাইয়ের সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও পরিবেশ দূষণ রোধে প্রয়োজনীয় পরামর্শও প্রদান করা হয়।

চামড়া সংরক্ষণের বিষয়ে বক্তারা বলেন, পশু জবাইয়ের পর যত দ্রুত সম্ভব চামড়ায় পর্যাপ্ত পরিমাণ লবণ লাগাতে হবে। বিশেষ করে চামড়ার ভাঁজযুক্ত অংশে ভালোভাবে লবণ ব্যবহার না করলে খুব দ্রুত পচন ধরে। পাশাপাশি চামড়া শুকনো ও ঠাণ্ডা স্থানে রাখতে হবে এবং দীর্ঘসময় রোদ বা পানির সংস্পর্শে রাখা যাবে না। এতে চামড়ার গুণগত মান অক্ষুণ্ন থাকবে এবং বাজারমূল্যও ভালো পাওয়া যাবে।

কর্মশালায় অংশ নেওয়া কয়েকজন কসাই ও ব্যবসায়ী জানান, আগে অনেক বিষয় তাদের জানা ছিল না। বিশেষ করে চামড়ায় কতটুকু লবণ দিতে হয় কিংবা কীভাবে সংরক্ষণ করলে দীর্ঘসময় ভালো থাকে  এসব বিষয়ে তারা গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পেয়েছেন। তারা মনে করেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ মাঠ পর্যায়ে আরও বেশি আয়োজন করা হলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, ঈদুল আজহার সময় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। কুরবানির বর্জ্য যেখানে সেখানে ফেলে না রেখে নির্ধারিত স্থানে ফেলতে হবে। এতে পরিবেশ দূষণ কমবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকবে। একইসঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানানো হয়।

শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয় এবং কুরবানির সময় স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।