বিরামপুরের উন্মক্ত বিনোদন কেন্দ্র দর্শনার্থীদের পদচারণায় মূখর

2026-06-02 00:49:56
news-picture

বিরামপুর (দিনাজপুর ) প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের বিরামপুর ছোট যমুনা নদীর ওপর কাঠের বর্ণিল সেতু ও নদীর পাড়ে সরকারী অর্থায়নে মনোরম পরিবেশে গড়ে তোলা বিনোদন কেন্দ্রের মায়াবী টানে ছুটছে দর্শনার্থী। শিশু-কিশোর, যুবক-যুবতী, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পদচারণায় মূখর হয়ে উঠেছে মোন্নাপাড়া ব্রিজ।

দিনাজপুর দক্ষিণ অঞ্চলের কেন্দ্রবিন্দু বিরামপুর উপজেলায় মানসম্মত কোন বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় লোকজন নিরিবিলি পরিবেশ ও মুক্ত হাওয়ার পরশ থেকে বঞ্চিত ছিল। বিষয়টি অনুধাবন করেন বিরামপুর বাসীগণ । ছোট যমুনা নদীর উপর সেতু নির্মানের পর থেকেই ঐ এলাকায় মানুষের আনাগোনা বেড়ে যায়। এই জন্য  উপজেলা প্রশাসক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করার নির্মিত্তে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রস্তাবনা পেশ করেন। জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম জন আকাঙ্খিত এ প্রকল্প বাস্তবায়নের দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। বিরামপুর উপজেলার সাবেক নির্বাহী অফিসার ও বর্তমানে নীলফামারী জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নুজহাত তাসনীম আওন এবং বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা: তানজিনা খাতুনের তত্বাবধানে বিরামপুর শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে সরকারি অর্থায়নে ছোট যমুনা নদীর উপর নির্মিত কংক্রিটের সেতুর নিচে বসানো হয় কাঠের বর্ণিল আর একটি সেতু। নদীতে উঠা-নামার জন্য তেরি করা হয় সিঁড়ি, সেতুর পাশে বসার জন্য বেঞ্চ আর সাজানো হয় বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের বাগান। এই প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ না হলেও বিনোদন প্রেমিরা নদীর পাড়ে নির্মল পরিবেশে প্রতিনিয়ত ভিড় করতে শুরু করেন। আর ঈদুল আজহায় সেই পদচারণা রূপ নেয় উপচে পড়া ভিড়ে। সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত চলে আনন্দ বিনোদন। দর্শনার্থীদের প্রয়োজন মেটাতে নদী পাড়ে বসেছে হরেক রকমের দোকান।

পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক তৈয়ব আলী বলেন, নিজ এলাকায় ঝামেলামুক্ত ভাবে মনোরম পরিবেশে ঘুরতে পেরে তিনি ও তার পরিবার খুবীই খুশি।

দর্শনার্থীদের অনেকে অভিয়োগের সুরে বলেন ঈদের দিন থেকে এ পর্যন্ত এত মানুষের ঢ়ল, এখান থেকে বাহির হওয়া যাচ্ছে না, কখন কি দূর্ঘটনা ঘটে প্রশাসনের কোন লোক দেখা যাচ্ছে না। ঈদের এই কয়েক দিন যদি আনছার বা গ্রাম পুলিশ নিয়োগ করা হতো তা হলেও ভাল হতো।

চটপটি দোকানী শিহাব বলেন, নতুন এই বিনোদন কেন্দ্র এলাকায় দোকান দিয়ে ভালো বিক্রি হচ্ছে। সরকারি জায়গা হওয়ার কারণে কাউকে টোল বা ভাড়া দিতে হয়না।

মোন্নাপাড়া বিনোদন কেন্দ্রের কাঠের সেতু নির্মাণে বিরামপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান বলেন, মানুষকে নিরিবিলি ও মনোরম পরিবেশে নদী পাড়ের নির্মল বাতাসে সময় কাটানোর জন্য এটি তৈরি করার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছিল। তবে এর সৌন্দর্য্য দর্শনার্থীদের হৃদয়কে এতোটা আকর্ষিত করবে তা কল্পনাও করিনি। লোক সমাগনে মনে হচ্ছে, সরকারি অর্থায়নে নির্মিত এই প্রকল্প স্বার্থকতা পেয়েছে।

বিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম সরকার বলেন, এই বিনোদন কেন্দ্রে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য স্থানীয়দের নিয়ে সুরক্ষা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া থানা পুলিশের টহল দল প্রতিনিয়ত টহলের মাধ্যমে এলাকাটি নজরদারিতে রেখেছে।