হযরত বেল্লাল, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা):
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের চন্ডিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মাণাধীন নতুন ভবন (সাইক্লোন সেন্টার) স্থাপনের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলমান মতবিরোধের অবসান ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বিদ্যালয়ের পুরাতন সীমানা অনুসরণ করে নতুন ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
সোমবার সকাল ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নুর মোহাম্মদ, সহকারী শিক্ষা অফিসার মুকুল চন্দ্র বর্মন, চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহেদী মোস্তফা মাসুম, সাবেক চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসাইন আমুস, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং এলাকার সচেতন নাগরিকরা।
সভায় বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য নির্ধারিত জমির সীমানা নিয়ে পূর্ব থেকে বিদ্যমান বিভিন্ন মতামত ও আপত্তির বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর উপস্থিত সকলের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনের যে পর্যন্ত সীমানা বিদ্যমান রয়েছে, নতুন ভবন (সাইক্লোন সেন্টার)ও ঠিক সেই সীমানার মধ্যেই নির্মাণ করা হবে।
সভায় বক্তারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিতব্য এই ভবনটি শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করবে না, বরং প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার সময় স্থানীয় জনগণের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হবে। ফলে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও দুর্যোগ মোকাবিলায় ভবনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, উন্নয়নমূলক এ প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের বাধা বা জটিলতা কাম্য নয়। সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত সিদ্ধান্তের আলোকে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কেউ যদি ব্যক্তিস্বার্থে বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে নতুন করে এ বিষয়ে জটিলতা সৃষ্টির চেষ্টা করেন, তাহলে সরকারের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সভা শেষে স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিনের বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে এবং শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী এর সুফল ভোগ করতে পারবেন।
স্থানীয়দের মতে, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের আন্তরিকতা ও সমঝোতার মাধ্যমে সীমানা বিরোধের নিষ্পত্তি হওয়ায় বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে এবং এলাকার শিক্ষা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।