নিজস্ব প্রতিবেদক:
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বাগপুর কাদেরিয়া দাখিল মাদ্রাসার এক পরিচ্ছন্নতা কর্মী দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসাটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মাদ্রাসার পরিচ্ছন্নতা কর্মী মাসুদ রানা গত ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তবে অনুপস্থিত থাকার পরও তিনি ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল মাসের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা উত্তোলন করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাসুদ রানা মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুস সালামের শ্যালক হওয়ায় স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে তাকে এসব প্রশাসনিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া চার মাসেরও বেশি সময় বিনা ছুটিতে অনুপস্থিত থাকলেও তার বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মাদ্রাসাটিতে তিনি একমাত্র পরিচ্ছন্নতা কর্মী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক ও স্থানীয় ব্যক্তি জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর সঙ্গে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির কয়েকজন সদস্যের সুসম্পর্ক থাকায় তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মী মাসুদ রানার বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুস সালাম বলেন, “মাসুদ রানা প্রথমে ছুটিতে ছিলেন, বর্তমানে অনুপস্থিত রয়েছেন।” তিনি আরও জানান, তাকে ছয় দিনের নৈমিত্তিক ছুটি প্রদান করা হয়েছে।
গঙ্গাচড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ মো. আরিফ মাহফুজ বলেন, “কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী অবৈধভাবে বেতন-ভাতা উত্তোলন করলে বিধি অনুযায়ী সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।”
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে অভিযোগটি অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হবে।”
স্থানীয়রা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।