গঙ্গাচড়ায় তালাবদ্ধ গণশৌচাগারে দুর্ভোগে জনসাধারণ, প্রশ্নের মুখে ৯ লাখ টাকার প্রকল্প

2026-06-21 00:10:43
news-picture

নির্মল রায়:

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে জনসাধারণের স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে অগ্রাধিকার গ্রামীণ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি গণশৌচাগার নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও সেটি জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। বরং নির্মাণের পর থেকেই গণশৌচাগারটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে উপজেলা পরিষদে বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত গণশৌচাগারটির মূল ফটকে তালা ঝুলছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ভবনটির চারপাশে আগাছা জন্মেছে এবং স্থাপনাটি অনেকটাই অযত্ন-অবহেলায় পড়ে রয়েছে। অথচ প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে শত শত মানুষ বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে উপজেলা পরিষদে আসেন। অনেককেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করতে হয়। এ সময় প্রয়োজনীয় স্যানিটেশন সুবিধা না থাকায় নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জনগণের করের টাকায় নির্মিত একটি গণশৌচাগার বছরের পর বছর তালাবদ্ধ পড়ে থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের প্রশ্ন, জনসাধারণের সুবিধার জন্য নির্মিত এই অবকাঠামো যদি ব্যবহারই করা না যায়, তাহলে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল?

উপজেলা পরিষদে সেবা নিতে আসা নোহালী ইউনিয়নের জামিয়ার রহমান বলেন, “প্রতিদিন অনেক মানুষ বিভিন্ন কাজ নিয়ে উপজেলা পরিষদে আসে। কিন্তু ব্যবহারের জন্য কোনো গণশৌচাগার খোলা পাওয়া যায় না। প্রয়োজনের সময় চরম সমস্যায় পড়তে হয়। সরকার মানুষের সুবিধার জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, কিন্তু এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বছরের পর বছর বন্ধ থাকাটা সত্যিই দুঃখজনক।”

কোলকোন্দ ইউনিয়নের নওশা মিয়া বলেন, “উপজেলা পরিষদে কোনো কাজ নিয়ে এলে অনেক সময় কয়েক ঘণ্টা থাকতে হয়। বিশেষ করে নারী ও বয়স্ক মানুষদের বেশি কষ্ট হয়। গণশৌচাগারটি চালু থাকলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হতো। কিন্তু এটি সবসময় তালাবদ্ধ থাকায় কেউ কোনো সুবিধা পাচ্ছে না।”

এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা এই গণশৌচাগার সরকারি অর্থ ব্যয়ের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। জনগণের সুবিধার্থে নির্মিত স্থাপনাটি ব্যবহার উপযোগী করে দ্রুত চালু করা না হলে সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ আরও জোরালো হবে বলে তারা মনে করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী

জানযাবিল বিনতে আহম্মেদ বলেন, “গণশৌচাগারটি পূর্বে ইজারা দেওয়া হয়েছিল। তবে ইজারাগ্রহীতা এটি পরিচালনা করে ব্যয় নির্বাহ করতে না পারায় কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। ফলে শৌচাগারটি ব্যবহারহীন অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং কীভাবে পুনরায় চালু করা যায় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। উপজেলা পরিষদ চত্বরে নির্মিত গণশৌচাগারটি জনসাধারণের সুবিধার জন্যই নির্মাণ করা হয়েছে। এটি বন্ধ থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ থাকা গণশৌচাগারটি দ্রুত চালু করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশাই স্থানীয়দের। তাদের মতে, জনগণের অর্থে নির্মিত এই ধরনের জনসেবামূলক স্থাপনা অব্যবহৃত না রেখে দ্রুত জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা উচিত।