ডিমলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ ৫ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের দিয়ে শরীর ম্যাসেজ করানোর ভিডিও ভাইরাল

2026-07-05 21:06:30
news-picture

ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি :

 নীলফামারীর ডিমলায় চারঘড়ি চাপানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ পাঁচ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ক্লাস ফাঁকি, দায়িত্বে অবহেলা এবং শিক্ষার্থীদের দিয়ে হাত-পা ও শরীর ম্যাসেজ করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।  জানা গেছে, ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের চারঘড়ি চাপানী গ্রামের বাসিন্দারা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামিয়ার রহমান এবং চারজন সহকারী শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন না। অনেক সময় দেরিতে বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। এছাড়া প্রধান শিক্ষক প্রায়ই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, কয়েকজন সহকারী শিক্ষক নিয়মিত পাঠদান না করে শিক্ষার্থীদের দিয়ে হাত, পা ও শরীর ম্যাসাজ করিয়ে নেন। এসব ঘটনার ভিডিও স্থানীয়দের কাছে সংরক্ষিত ছিল। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

অভিযোগকারীরা বলেন, শিক্ষকদের এসব অনিয়মের বিষয়ে একাধিকবার মৌখিকভাবে সতর্ক করা হলেও কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে থাকায় বিদ্যালয়ের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সুনামও নষ্ট হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন। তারা আরো বলেন,, গত ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবরে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে  লিখিত অভিযোগ দিলেও কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেন নি। 

স্থানীয় অভিভাবকদের দাবি, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিশুদের শিক্ষাজীবনের ভিত্তি গড়ে তোলে। সেখানে শিক্ষকরা যদি নিয়মিত ক্লাস না নেন কিংবা শিক্ষার্থীদের দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করিয়ে নেন, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং নিন্দনীয়। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

শিক্ষার্থীদের দিয়ে হাত, পা ও শরীর ম্যাসেজ করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে  এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বীরেন্দ্রনাথ রায় সংবাদ কর্মীদের বলেন, চারঘড়ি চাপানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা, জবাবদিহি ও শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি জোরদার করার পাশাপাশি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চারঘড়ি চাপানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামিয়ার রহমান এবং অভিযোগে উল্লেখিত সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে প্রতিবারই তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

 বর্তমানে ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বীরেন্দ্রনাথ রায় জানিয়েছেন ।