নির্মল রায়:
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষীটারী ইউনিয়নের মহিপুর তিস্তা সেতু থেকে চর চল্লিশ সাল গ্রামে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায় এটি প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে চর চল্লিশ সাল গ্রামের প্রায় ১৫০টি পরিবারের কয়েক শতাধিক মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, মহিপুর তিস্তা সেতুর সঙ্গে চর চল্লিশ সাল গ্রামের যোগাযোগের একমাত্র প্রধান মাধ্যম এই সড়ক। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদাপানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, রোগী ও সাধারণ মানুষের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। জরুরি প্রয়োজনে যানবাহন চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মহুবর রহমান (৬৫) বলেন, “এই সড়কটি আমাদের গ্রামের একমাত্র প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। বহুদিন ধরে সড়কটির অবস্থা খারাপ। বর্ষা মৌসুমে চলাচল আরও কঠিন হয়ে যায়। দ্রুত সংস্কার না হলে এলাকার মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”
স্থানীয় বাসিন্দা আবু সাম (৪৮) বলেন, “প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও অসুস্থ রোগীদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি। দ্রুত সংস্কার করা না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”
এদিকে সিমান্ত এগ্রো অ্যান্ড ফিসারিজের স্বত্বাধিকারী মোঃ রবিউল হাসান বলেন, “চর চল্লিশ সাল এলাকায় বিদেশি জাতের আমের বাগান রয়েছে। পাশাপাশি মাছ চাষও করা হচ্ছে। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে কৃষিপণ্য ও মাছ বাজারজাত করতে চরম সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। এতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা বাড়ছে।”
লক্ষীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, “সড়কটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”