নির্মল রায়:
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষীটারী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল চর চল্লিশ সাল। প্রায় ১৫০টি পরিবারের বসবাস হলেও গ্রামটিতে নেই কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ফলে শতাধিক শিশু শিক্ষার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নিকটতম বিদ্যালয়ে যেতে প্রায় তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হওয়ায় অনেক শিশু নিয়মিত স্কুলে যেতে পারে না। এতে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে অল্প বয়সেই ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে তারা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চর চল্লিশ সাল গ্রামের শিশুদের লেখাপড়ার জন্য দূরের বিদ্যালয়ের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু দীর্ঘ পথ, ভাঙাচোরা সড়ক, বর্ষাকালে কাদা ও জলাবদ্ধতা এবং যাতায়াতের নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে অধিকাংশ শিশুর পক্ষে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। বিশেষ করে ছোট শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা মহুবর রহমান (৬৫) বলেন, “স্বাধীনতার এত বছর পরও আমাদের গ্রামে একটি স্কুল হলো না। ছোট ছোট বাচ্চাদের তিন কিলোমিটার দূরে গিয়ে পড়াশোনা করতে হয়। অনেকেই কষ্টের কারণে নিয়মিত স্কুলে যেতে পারে না। ফলে অনেক শিশু লেখাপড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা আবু সাম (৪৮) বলেন, “একটি বিদ্যালয়ের অভাবে পুরো গ্রামের শিশুরা পিছিয়ে পড়ছে। বর্ষাকালে রাস্তার অবস্থা এত খারাপ থাকে যে অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে সাহস পান না। এতে শিশুদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. রবিউল হাসান বলেন, “চর চল্লিশ সাল এখন একটি বড় জনবসতিপূর্ণ এলাকা। কৃষি ও মৎস্য খামারসহ নানা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড রয়েছে। কিন্তু শিক্ষার জন্য একটি বিদ্যালয়ও নেই। একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হলে এলাকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত হবে।”
এলাকাবাসী জানান, বিদ্যালয়ের অভাবে অনেক শিশু প্রাথমিক শিক্ষাই সম্পন্ন করতে পারছে না। কেউ কেউ কয়েকদিন স্কুলে গিয়ে পরে আর নিয়মিত যেতে পারে না। ফলে শিক্ষার হার কমে যাচ্ছে এবং নতুন প্রজন্ম শিক্ষার মূলধারা থেকে পিছিয়ে পড়ছে।
লক্ষীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, “চর চল্লিশ সাল এলাকায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রয়োজন রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরে আনার চেষ্টা করা হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, “চর চল্লিশ সাল এলাকায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি স্থানীয়দের কাছ থেকে আবেদন পাওয়া গেলে তা যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করবে।”
চর চল্লিশ সাল গ্রামের বাসিন্দারা স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে চরাঞ্চলের শতাধিক শিশুর শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত হবে এবং এলাকার সার্বিক শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।