বড়বিলে গর্ভবতী মায়েদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও এক মাসের ওষুধ বিতরণ

2026-07-13 01:41:17
news-picture

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে গর্ভবতী মায়েদের জন্য দুই দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্য পরামর্শ এবং এক মাসের ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মা ও শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গৃহীত এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

রবিবার (১২ জুলাই) বড়বিল ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের আওতায় পরিচালিত এ কর্মসূচিতে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং বিনামূল্যে এক মাসের ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আসা গর্ভবতী নারীরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভিড় করেন। চিকিৎসকরা তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন এবং স্বাস্থ্যগত অবস্থা অনুযায়ী ওষুধ প্রদান করেন। দীর্ঘদিন চিকিৎসকের সংকটে ভোগা এলাকার বাসিন্দারা এ উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেন।

সেবা নিতে আসা ইতি বেগম বলেন, “আগে সামান্য চিকিৎসার জন্যও উপজেলা সদরে যেতে হতো। এখন ইউনিয়নেই চিকিৎসক পেয়ে অনেক উপকার হয়েছে। বিনামূল্যে ওষুধও দেওয়া হয়েছে।”

আরেক উপকারভোগী শেফালী বেগম বলেন, “গর্ভাবস্থায় নিয়মিত চিকিৎসা খুব প্রয়োজন। ইউনিয়ন পরিষদের এই উদ্যোগে আমাদের মতো অনেক নারী উপকৃত হচ্ছেন। এতে সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে।”

জানা গেছে, দীর্ঘদিন চিকিৎসক না থাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি ছিল। বর্তমানে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রমের আওতায় রবিবার ও সোমবার চিকিৎসক উপস্থিত থেকে গর্ভবতী মায়েদের প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করবেন।

বড়বিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. শামসুল হুদা বলেন, “মা ও শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইউনিয়ন পরিষদ সবসময় গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। গর্ভবতী মায়েদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতেও জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ ও ওষুধ প্রদানের ফলে গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে এবং নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ইউনিয়ন পরিষদের এমন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার দাবি জানান তারা।