গঙ্গাচড়ায় উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এসি স্থাপন নিয়ে প্রশ্ন, ব্যাখ্যা চায় স্থানীয়রা

2026-07-14 23:35:29
news-picture

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রকৌশলীর (এলজিইডি) কার্যালয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) স্থাপন ও ব্যবহার নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি কার্যালয়ে এসি ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বিধি-বিধান অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় কক্ষে একটি এসি স্থাপন করা হয়েছে। তবে এটি সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে স্থাপন করা হয়েছে নাকি অন্য কোনো উৎস থেকে সংস্থাপন করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে যথাযথ প্রশাসনিক অনুমোদন রয়েছে কি না—সে বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা হোক। একই সঙ্গে সরকারি বিদ্যুৎ সাশ্রয় সংক্রান্ত নির্দেশনা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুযায়ী এসি ব্যবহারের বিষয়টিও স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী জয়্যা সান্যাল বলেন, “আমি গত রবিবার গঙ্গাচড়া উপজেলায় যোগদান করেছি। এসিটি কবে স্থাপন করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই।”

কার্যালয়ের দরজা বন্ধ রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি একজন নারী কর্মকর্তা। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও শালীনতার স্বার্থে দরজা বন্ধ রাখা হয়। তবে দরজা বন্ধ থাকলেও যে কেউ নক করে ভেতরে প্রবেশ করতে পারেন।”

তিনি আরও বলেন, “রংপুর জেলার পীরগাছাসহ বিভিন্ন উপজেলায় উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এসি রয়েছে।”

এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, “উপজেলা প্রকৌশলী সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এসি ব্যবহার করতে পারেন কি না, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।”

এদিকে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে স্থানীয় দুইজন গণমাধ্যমকর্মী ও এক সেবাপ্রত্যাশী উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে কার্যালয়ে যান। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তারা কর্মকর্তার সাক্ষাৎ পাননি। এ ঘটনায় সেবাগ্রহীতাদের প্রবেশাধিকার ও সরকারি কার্যালয়ের সেবার মান নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয়রা মনে করছেন, এসি স্থাপন ও ব্যবহারের বৈধতা, প্রশাসনিক অনুমোদন এবং সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে আচরণের বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা উচিত। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও স্পষ্ট ব্যাখ্যার দাবি জানিয়েছেন তারা।