মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুরের মিঠাপুকুরে জমিজমা সংক্রান্ত জের ধরে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় ইউপি সদস্যের পরিবারের ৪ জন সদস্য গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আহতরা হলেন- হেলেনা বেগম (৪৮), হাবিবুল্লাহ মানিক (২৮), আনাছ শেখ অনিক (২৪), হাসান আলী (৩২)। এর মধ্যে গুরুতর আহত আনাছ শেখ অনিককে রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে। অপর তিনজন মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
এই ঘটনায় মিঠাপুকুর থানায় হাবিবুল্লাহ মানিক ৬ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা চেষ্টা মামলা করেন। অভিযুক্তরা হলেন,
সৈকত ইসলাম পাখি,আমিনুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম,আনার মিয়া, শাহা দুলাল,রহিমা বেগম।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রহমতপুর বাজার এলাকার ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদিন পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ৯৩ শতাংশ জমিতে বংশানুক্রমিক শতবছর ধরে বসবাস করে আসছেন। ওই ইউপি সদস্যের অকাল মৃত্যুতে একপ্রকার অবিভাবক শূন্য হয়ে যায় পরিবারটি। এ সুযোগে অভিযুক্তরা জমিটি নিজের দাবি করে মিঠাপুকুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক সৈকত ইসলাম পাখির নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র, চাইনিজ কুড়াল, লাঠিসোঁটা নিয়ে দলবদ্ধ হয়ে বাড়িতে ঢুকে জয়নাল আবেদীনের পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আনাছ শেখের মাথায় ধারালো হাসুয়া দ্বারা আঘাত করায় গভীর ক্ষতের সৃষ্টি এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।
ইউপি সদস্য মৃত জয়নাল আবেদীনের বড় ছেলে হাবিবুল্লাহ মানিক বলেন, দলীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে সৈকত আমাদের প্রতিপক্ষের নিকট ২ লক্ষ টাকা নিয়ে আমার পরিবারের ওপর অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা চালায়।
অভিযোগের বিষয়ে যুবদল নেতা সৈকত ইসলাম বলেন, সমাজের নেতৃত্ব দেওয়ার অংশ হিসেবে সামাজিক কর্মকান্ডে যেতে হয়। হামালায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণে মিথ্যা।
যুবদল নেতার জড়িত থাকার বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, ঘটনার সত্যতা প্রমানিত হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
মামলার বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদ বলেন, হামলার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুতই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।