গঙ্গাচড়ায় মাদক নির্মূলে মতবিনিময় সভা, পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ ৪ জনের

2026-08-09 22:55:12
news-picture

নিজস্ব প্রতিবেদক:

“সবার আগে বাংলাদেশ, মাদকমুক্ত বাংলাদেশ চাই”—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় মাদক নির্মূলে মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার করার পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

শনিবার  (৮ আগস্ট) রাতে গঙ্গাচড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড মাদক নির্মূল কমিটির উদ্যোগে এ মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস ছবুর। সভায় সভাপতিত্ব করেন গঙ্গাচড়া

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান দুলু।

বক্তব্যে ওসি আব্দুস ছবুর বলেন, “মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দেয়। শুধু পুলিশের একার পক্ষে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়; এজন্য জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী যত প্রভাবশালীই হোক, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে যারা মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান, তাদের আমরা সহযোগিতা করতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “এলাকায় মাদক বিক্রি বা সেবনের কোনো তথ্য থাকলে পুলিশকে জানান। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে পুলিশ ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই সবচেয়ে বড় শক্তি।”

সভায় গঙ্গাচড়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আপেল মাহমুদ বলেন, “মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, একটি পরিবারকে ধ্বংস করে এবং ধীরে ধীরে সমাজের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিপথে নিয়ে যায়। তাই মাদকের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মাদক ব্যবসায়ীদের কোনোভাবেই আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। যারা মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান, তাদের সমাজে পুনর্বাসনের সুযোগ করে দিতে হবে।”

এ সময় বক্তব্য রাখেন ইউপি সদস্য বদিউজ্জামান বুলু, মাদক নির্মূল কমিটির ৯নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক বাবুল মিয়া, রিয়াজুল ইসলাম খতিব, চ্যাংমারী মান্দ্রাইনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

সভায় মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় মাদক বিক্রেতা সাসছ, রিয়াজ ও মুন্না এবং মাদকসেবী রোকন আত্মসমর্পণ করেন। তারা মাদক থেকে সরে এসে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অন্যদিকে, এলাকায় মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত বিকাশ ও নুরুজ্জামানকে আটক করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান এলাকাবাসী।

বক্তারা বলেন, শুধু অভিযান চালিয়ে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়; একই সঙ্গে পরিবার ও সমাজের ভেতর থেকে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করে খেলাধুলা, শিক্ষা ও ইতিবাচক সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।