তিন বছরে ৩০টি ক্লাসও নেননি শিক্ষক আরাফাত, স্কুলে বসে মোবাইলে ব্যস্ত থাকার অভিযোগ

2026-08-14 02:43:56
news-picture

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে মোবাইল ফোনে হুমকি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সহকারী শিক্ষক মো. আরাফাত রহমানের বিরুদ্ধে এবার দায়িত্ব পালনে অনিয়ম, নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান না করা এবং সহকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিন বছরে তিনি অন্তত ৩০টি ক্লাস নেননি। বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকলেও শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পরিবর্তে অনেক সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ব্যস্ত থাকতেন।
অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আরাফাত রহমান ২০২৩ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। এরপর থেকে তিনি রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার পূর্ব ইচলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন।
বিদ্যালয়ে কর্মরত কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আরাফাত রহমান নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে গিয়ে পাঠদান করতেন না। বিদ্যালয়ে এসে অনেক সময় অফিস কক্ষে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন। ফলে তাঁর ওপর অর্পিত পাঠদানের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন হচ্ছে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন রয়েছে।
শিক্ষকদের অভিযোগ, গত তিন বছরে অন্তত ৩০টি ক্লাস তিনি নেননি। অর্থাৎ বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকার সময় নির্ধারিত দায়িত্ব অনুযায়ী নিয়মিত পাঠদান না করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অসন্তোষও তৈরি হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, আরাফাত রহমানকে ক্লাসে যাওয়ার কথা বলা হলে কিংবা দায়িত্ব পালনে অনিয়মের বিষয়ে কেউ প্রশ্ন তুললে তিনি অনেক সময় সহকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করতেন। তাঁর এমন আচরণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশেও বিরূপ প্রভাব পড়ত বলে অভিযোগ করেন তারা।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারাও অবগত বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট এক উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “তিন বছরে অন্তত ৩০টি ক্লাস তিনি নেননি—এমন অভিযোগ ও তথ্য আমাদের পর্যবেক্ষণে এসেছে। বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকলেও শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পরিবর্তে অন্য কাজে ব্যস্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।”
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আরও জানান, একজন শিক্ষকের প্রধান দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে কোনো শিক্ষক নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান না করলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
এরই মধ্যে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন প্রধানকে মোবাইল ফোনে হুমকি, অশালীন ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে শিক্ষক আরাফাত রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। গত ১১ আগস্ট জারি করা অফিস আদেশে সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তবে দায়িত্ব পালনে অনিয়ম, তিন বছরে ৩০টি ক্লাস না নেওয়া, শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিত থাকা এবং সহকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগগুলো পৃথকভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শিক্ষক মো. আরাফাত রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে স্থানীয় অভিভাবকরা শিক্ষক আরাফাত রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, “একজন  শিক্ষকের প্রধান দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান করা। তিন বছরে ৩০টি ক্লাস না নেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে শুধু সাময়িক বরখাস্ত নয়, বিধি অনুযায়ী চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই।”