নীলফামারীতে তিস্তা সেচ খালে ডুবে দুই শিশু ও নসিমনের ধাক্কায় নিহত ১, আহত ২

2026-08-17 20:07:15
news-picture

নীলফামারী প্রতিনিধি:

নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদীর প্রধান সেচ খালে ডুবে দুই শিশু ও নসিমনের ধাক্কায় এক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে ২ জন।

সোমবার দুপুরে(১৭আগষ্ট) উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের কাঁকরা তুহিন বাজার স্লুইচ গেট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, নাউতারা ইউনিয়নের কাঁকরা এলাকার আবুল হোসেনের মেয়ে পাখি আক্তার(১২) ও একই ইউনিয়নের নিজপাড়া এলাকার সেলিমুর রহমানের মেয়ে সিনহা আক্তার(৪)।

স্থানীয়রা জানান, দুপুর সাড়ে বারটার দিকে সেচ ক্যানেলের পাশে কয়েকজন শিশু খেলছিলো। এক পর্যায়ে শিশু সিনহা ক্যানেলের পানিতে পড়ে যায়। তাকে উদ্ধারের জন্য তার খালা পাখি আক্তার পানিতে নামলে সেও ডুবে যায়।

এ সময় শিশুদের চিৎকারে স্থানীয়রা ক্যানেলে নেমে দু’জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

নাউতারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আশিক ইমতিয়াজ মোর্শেদ মনি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জায়গাটি ঝুঁকিপুর্ণ ছিলো। দুর্ঘটনা রোধে দ্রুত নিরাপত্তা নেয়া প্রয়োজন।

ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) শওকত আলী জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে মৃতদেহ হস্তান্তর করা হবে। 

অপরদিকে নীলফামারীর ডোমার-জলঢাকা সড়কের তিনবট এলাকায় নসিমনের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী শাহাজান ইসলাম (২০) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শাহাজান ইসলাম ডিমলা উপজেলার আমডাঙ্গা এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে। তিনি এবারের এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। আহতরা হলেন মোটরসাইকেল চালক মমিনুর ইসলাম ও লোকমান হোসেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহাজান ইসলাম, তার চাচা ও ফুফা ডিমলা থেকে মোটরসাইকেলে করে নীলফামারী পাসপোর্ট অফিসে যাচ্ছিলেন। পথে তিনবট বাজার এলাকায় জলঢাকা থেকে গরুবোঝাই একটি নসিমন ডোমারের বসুনিয়া হাটের দিকে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে নসিমনটি মোটরসাইকেলের ওপর উল্টে পড়ে তিনজন চাপা পড়েন।

স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহাজান ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মমিনুর ইসলাম ও লোকমান হোসেনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

নিহতের চাচা জাহিদুল ইসলাম বলেন, শাহাজান এবার এসএসসি পাস করেছে। কিছুদিনের মধ্যে তার মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা ছিল। সে ছিল তার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। দুর্ঘটনায় তার মৃত্যুতে পরিবারের সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে।

এদিকে দুর্ঘটনার পর নসিমনচালক পালিয়ে গেছেন।

ডোমার থানার এসআই কাওছার আলম শাহাজানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।