নিজস্ব প্রতিবেদক:
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় সরকারি কৃষি প্রণোদনা বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত ও নিয়মিত চাষিরা সার, বীজ ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা থেকে বঞ্চিত হলেও নিয়মিত চাষাবাদ করেন না এমন ব্যক্তিরা কৃষি প্রণোদনার তালিকায় স্থান পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
কৃষকদের অভিযোগ, উপজেলা কৃষি অফিসের মাঠপর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে
এমন ব্যক্তিদের কেউ কেউ জমি চাষ না করেও সরকারি প্রণোদনার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে বছরের পর বছর চাষাবাদ করা অনেক কৃষক কোনো ধরনের সরকারি প্রণোদনা পাচ্ছেন না।
কৃষকদের আরও অভিযোগ, ফসলের ক্ষতি বা কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যার সময় মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত দেখা যায় না। ফলে প্রকৃত কৃষকদের সমস্যা ও প্রয়োজনীয়তা সঠিকভাবে যাচাই না করেই প্রণোদনার তালিকা তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
কোলকোন্দ ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের কৃষক বিকাশ চন্দ্র রায় (৪৫) বলেন, তিনি প্রায় ১০ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করেন। তাঁর জমিগুলো তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে হওয়ায় মাঝেমধ্যে বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করেও তিনি কোনো সরকারি কৃষি প্রণোদনা পাননি।
একই এলাকার কৃষক দুলাল মিয়া (৫৮) বলেন, তিনি নিয়মিত চাষাবাদ করলেও সরকারি প্রণোদনার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
আলমবিদিতর ইউনিয়নের কৃষক সামসুল (৫০) বলেন, তিনি প্রায় ১০ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করেন। কিন্তু জীবনে কোনোদিন সরকারি কৃষি প্রণোদনা পাননি। তাঁর অভিযোগ, প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে প্রভাবশালী বা পরিচিত ব্যক্তিদের অনেক সময় প্রণোদনার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
এদিকে কৃষকেরা কৃষি প্রণোদনা বিতরণের তালিকা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রশ্ন, তালিকায় প্রকৃত কৃষকদের বাদ দেওয়া হয়েছে কি না এবং নিয়মিত চাষাবাদ না করা ব্যক্তিরা কীভাবে প্রণোদনার আওতায় এসেছেন তা তদন্তের মাধ্যমে বের করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হুসেইনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য না দিয়ে বলেন, যেসব কৃষক প্রণোদনা পাননি, তারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।