শাহ্ মোঃ রেজাউল করিম, পীরগঞ্জ(রংপুর):
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বড় আলমপুর ইউনিয়নে দুঃস্থ নারীদের জন্য বরাদ্দকৃত (ভিডব্লিউবি) চাল নিয়ে গত এক বছর ধরে লুটপাট করছে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যরা মর্মে অভিযোগ উঠেছে। আর এসব কাজে সহযোগিতা করেছে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও ইউপি প্রশাসক আব্দুর রাজ্জাক। অভিযোগ রয়েছে ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যানকে কৌশলে অপসারন করে এসব লুটপাট করেছে ইউপি সদস্যরা। ৬০ জনের প্রতিবস্তা চালের মূল্যে ১হাজার ৪’শ ৪০ টাকা করে এক বছরে ৭’শ ২০ বস্তা চালের দাম প্রায় ১০ লক্ষ ৩৬ হাজার ৮’শ টাকা লুটপাট হয়েছে।
জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে উক্ত ইউনিয়নে ১’শ ৭৫জন উপকারভোগীর নামে কার্ড বরাদ্দ দিলেও ৬০ জন কার্ডধারী জানেনই না তাদের নামে কার্ড রয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাস থেকে চলতি বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত নিয়মিত লুটপাট চলে আসছে। এসব কার্ড বিশেষ চুক্তিতে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যদের হাতে কৌশলে কার্ডগুলো তুলে দিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসক ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল রাজ্জাক। আর তাকে এ কাজে সহযোগিতা করেছেন উপজেলা মহিলা বিষযক কর্মকর্তা মল্লিকা পারভীন। সম্প্রতি হাইকোর্টের নির্দেশে স্বúদে বহাল হয়ে নির্বাচিত স্বতন্ত্র ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান সেলিম চাল বিতরন কালে বিষয়টি প্রত্যক্ষ করে ৬০ জন উপকারভোগীর কার্ড তাদের কাছে নেই। এগুলো সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড ইউপি সদস্যদের হাতে রয়েছে। যাদের নামে কার্ড বরাদ্দ রয়েছে তারা কেউ জানেই না যে তারা সরকারি সুবিধা ভোগী। অনেকের ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করেছে আবার কারও নাম সঠিক থাকলেও স্ত্রীর নাম ভুয়া, অনেকের নাম ঠিক থাকলেও গ্রামের নাম দেয়া হয়েছে ভিন্ন। গত এক বছর ধরে এই অনিয়ম নিয়ম হয়েছে ওই ইউনিয়নে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা ও ইউপি প্রশাসক বরাদ্দকৃত কার্ডগুলো সংরক্ষিত নারী সদস্যা ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড ইউপি সদস্যদের ভাগ করে দেন। যাতে করে তারা নির্বিঘ্নে দুঃস্থদের নামে বরাদ্দকৃত চাল তুলে বিক্রি করতে পারেন। টানা এক বছর বরাদ্দকৃত ওই চাল উত্তোলন করে ভাগাভাগি হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে সরেজমিন গিয়ে তথ্য সংগ্রহকালে এ ভয়াবহ চিত্র উঠে আসে। খষ্টি গ্রামের আলতাফ আলীর স্ত্রী গোলাপি বেগম এর নাম তালিকায় আছে কিন্তু চাল উত্তোলন করেন ইউপি সদস্য শাহীন মিয়া, গোলাপি বেগম জানান, শুরুতে ৩০ কেজি চাল ২ বার পেয়েছি। এর পরে আর পাই নাই শুনেছি মেম্বারের বাড়িতে কার্ড আেেছ। একই গ্রামের রামনাথ রায়ের স্ত্রী ববিতা রানী, বিশু চন্দ্রের স্ত্রী তৃপ্তি রানীর নাম তালিকায় থাকলেও তারা চাল থেকে বঞ্চিত। তৃপ্তি রানী ও ববিতা বলেন, আমাদের নামে কার্ড হয়েছে আমরা আজ প্রথম শুনলাম। ছোট রসুলপুর গ্রামের নায়েবুল ইসলামের স্ত্রী আছমা বেগম জানান, আমার নামে কার্ড আছে কিন্তু আমি চাল পাইনা। এই রকম প্রায় ৬০জন তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগী তাদের নামে বরাদ্দকৃত চাল তারা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মল্লিকা পারভীন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখি বলে মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেদেন।
সাবেক ইউপি প্রশাসক ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, আমি বড় আলমপুর ইউনিয়ন নিয়ে কোন মন্তব্য করতে পারবনা। চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে মুঠোফোনের সংযোগ কেটেদেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।