নিজস্ব প্রতিবেদক:
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ভুয়া এনএসআই কর্মকর্তা পরিচয়ে বিয়ে করার অভিযোগে মো. লিওন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ‘সম্রাট হোসাইন সামিম’ নামে কথিত পরিচয়পত্র দেখিয়ে নিজেকে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) ‘জুনিয়র ফিল্ড অফিসার’ পরিচয় দিয়ে বিয়ে করেন তিনি। পরে তার প্রকৃত পরিচয় ও প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার (১৯ আগস্ট) গঙ্গাচড়া মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়। পরে মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের মধ্য কচুয়া এলাকার মোকাররম হোসেনের মেয়ে মাহফুজা আক্তার রিয়া মনিকে বিয়ের সময় লিওন নিজেকে এনএসআই কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। এ সময় তিনি ‘সম্রাট হোসাইন সামিম’ নামে একটি পরিচয়পত্র দেখিয়ে নিজেকে এনএসআইয়ের ‘জুনিয়র ফিল্ড অফিসার’ হিসেবে পরিচয় দেন। সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়ায় মেয়ের পরিবার তার পরিচয় বিশ্বাস করে বিয়েতে সম্মতি দেয় বলে জানা গেছে।
লিওন মিয়া গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের সয়রাবাড়ি ফুলবাড়িচওড়া এলাকার সাফুল মিয়ার ছেলে।
সরেজমিনে দেখা যায়, লিওনের ব্যবহৃত কথিত এনএসআই পরিচয়পত্রে নাম লেখা রয়েছে ‘SOMRAT HOSSAIN SAMIM’ এবং পদবি ‘Junior Field Officer’। পরিচয়পত্রটিতে এনএসআইয়ের নাম ও প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ইস্যুর তারিখ হিসেবে ৮ জুলাই ২০২১ উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিবেদকের হাতে থাকা একটি কথিত এনএসআই-সংক্রান্ত অঙ্গীকারনামাতেও ‘সম্রাট হোসেন সামিম’ নাম উল্লেখ করে এনএসআইয়ে চাকরিরত থাকার কথা বলা হয়েছে। তবে পুলিশের নথিতে তার প্রকৃত নাম মো. লিওন মিয়া। অভিযোগ রয়েছে, নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে ভিন্ন পরিচয়ে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে তিনি জাল জাতীয় পরিচয়পত্রও তৈরি করেছেন।
মামলার বাদী মোকাররম হোসেন বলেন, “লিওন নিজেকে এনএসআই কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে আমার মেয়েকে বিয়ে করেছে। ‘সম্রাট হোসাইন সামিম’ নামে পরিচয়পত্র দেখিয়ে নিজেকে এনএসআইয়ের জুনিয়র ফিল্ড অফিসার হিসেবে পরিচয় দেয়। পরে তার পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হলে খোঁজ নিয়ে প্রকৃত তথ্য জানতে পারি। ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সে আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এ ঘটনায় আমি থানায় মামলা করেছি।”
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিয়ের পর লিওনের আগের সংসার ও সন্তানের বিষয়টিও প্রকাশ্যে আসে। তার প্রথম স্ত্রী সন্তানসহ মোকাররম হোসেনের বাড়িতে আসার পর বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। এরপর লিওনের প্রকৃত পরিচয়, চাকরি ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়।
এদিকে লিওনের বিরুদ্ধে ভুয়া পরিচয়ে প্রতারণার পাশাপাশি একটি সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখল ও বিক্রির চেষ্টা, প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা ।
অভিযোগের বিষয়ে লিওন মিয়ার সঙ্গে কথা হলে তিনি পরিচয় গোপন করে মাহফুজা আক্তার রিয়া মনিকে বিয়ে করার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “এটি অন্যায় হয়েছে।”
গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর ছবুর বলেন, “এ ঘটনায় থানায় মামলা হওয়ার পর তাকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।